ঘটনাগুলোর তদন্ত ও সুরাহায় কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেছে ভারত। নয়াদিল্লি আশা করছে, বাংলাদেশ সরকার বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দুর্গাপূজা সামনে রেখে দেওয়া ওই বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, গত তিন মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর খুনসহ ১৪১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সংগঠনগুলো অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করেন ওই সাংবাদিক। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের বিষয়গুলোর সুরাহা করবে।”
ভারতের মুখপাত্র অতীতের ঘটনা কিংবা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি দোষারোপও করেননি। বরং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে- এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন তিনি।
বিমসটেকের বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে দিল্লি: সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের অনুপস্থিতি নিয়ে। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।
এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক উল্লেখ করেন, এর আগে বিমসটেকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের সম্প্রসারিত পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি অংশ নেননি। এবার বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান তিনি।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিমসটেকের বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠকের উদ্বোধন করেন। বৈঠক শেষে ‘দিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং অর্থ পাচার বন্ধে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলও বৈঠকে অংশ নিয়েছে। ভারতের প্রত্যাশা, বিমসটেকের সব সদস্যদেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দিল্লি।
সৌদি আরবে হামলার নিন্দা ভারতের: সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান রণধীর জয়সওয়াল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘একদমই অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তিনি বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬