রাজধানীর আদাবরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি ভবন দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুজন আহত হয়েছেন। পরে আহত দুজনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আদাবর থানা-পুলিশ জানায়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন খেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জনকে দেখে তাঁদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলে তাঁরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন আত্মরক্ষার্থে অভিযানে থাকা এক পুলিশ সদস্য তাঁর হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
গুলিতে রাজিব হাওলাদার (৩০) ও সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪) পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের সঙ্গে শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)কেও গ্রেফতার করা হয়। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় অন্যরা পালিয়ে যায়।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, বাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চলছিল। খালপাড়ে কয়েকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। আসামিরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। রাজিব মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের প্রথম প্রকল্পের ৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ফটক, জানালা ও নিরাপত্তার জন্য লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল। ভবন মালিকের স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, রামদা ও পিস্তল ছিল। হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
ভবন মালিকের স্বজনদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি একইভাবে ভবনটি দখল করেছিলেন। পরে আদালত ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মার্চ মালিকেরা ভবনটির দখল ফিরে পান। কয়েক মাসের মধ্যেই আবার সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনা পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মুখে মাস্ক পরা একজনকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং পরে অস্ত্র হাতে একদল তরুণকে বাড়িটির তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করতে দেখা যায়। এরপর তারা জানালা ও প্রধান ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় আগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাতের অভিযানে আরো চারজন গ্রেফতারের পর মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পুলিশ বলছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৯/২০২৬