হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী পরিচালককে হুমকি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। দলটির দাবি, ‘ঠুনকো অজুহাতে’ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের পর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পৃথক বিবৃতিতে বলেন, ‘সামান্য ও ঠুনকো অজুহাতে’ একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা এবং তড়িঘড়ি করে তাঁকে আটক করা উদ্বেগজনক। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ভিআইপি ও সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আখতারুজ্জামান দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সামান্য কথা কাটাকাটির ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো মামলা দেওয়া এবং দ্রুত তাঁকে আটকের ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় মামলা করে আটকের সংস্কৃতি দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলেও মন্তব্য করা হয়। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করে আখতারুজ্জামানকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান সেলিম উদ্দিন।
তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের করা মামলায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের ওমরাহ যাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে বিমানবন্দরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলি সংকটের মধ্যে কয়েকজন যাত্রী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং তাঁকে মারধরের হুমকি ও ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার কথা বলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্টরা নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।
এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে আখতারুজ্জামান ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
মামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে মিছিলটি বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে সমাবেশ করে।
সানা/আপ্র/২/১০/২০২৬