একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে বন্দর অচল করে দেওয়ার ঘোষণা এবং মশাল মিছিলের কর্মসূচি থাকলেও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে এ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের জন্য নিয়োগের খসড়া কনসেশন চুক্তিতে গত ১ অক্টোবর অনুমোদন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকরা চুক্তির প্রতিবাদে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষর হলে বন্দর অচল করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে মশাল মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব ইব্রাহিম খোকনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুও ফোনে সাড়া দেননি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে ইনভেস্ট বাংলাদেশ সীমিত আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০ অতিথি থাকবেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ৩০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্যরা ঢাকার। অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এশা কাজিম।
শ্রমিকদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার এবং আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্পও এখনো তৈরি হয়নি। তাই এ বিষয়ে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এর জন্য সরকারকে চরম মাশুল দিতে হবে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
সানা/আপ্র/৮/১০/২০২৬