বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তির (পিসিএ) ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ চূড়ান্তের পথে এগোচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কালা কালাস। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি মূল পিসিএ চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল তুরস্ক থেকে ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা দেবে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পিসিএ চুক্তি নিয়ে গত এক বছর ধরে ধারাবাহিক আলোচনা, নথি বিনিময় ও দরকষাকষি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উভয় পক্ষ খসড়া চূড়ান্তে পৌঁছায়। এরপরই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত আসে। এখন এটিকে মূল চুক্তির রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি এখনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের অনুমোদনসহ আরো কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্ত পিসিএ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এক কূটনীতিক জানান, দুই পক্ষই মূলত নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। এখন যা হচ্ছে তা হলো রাজনৈতিক সম্মতির আনুষ্ঠানিক রূপায়ণ। ভবিষ্যতে শীর্ষ পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ২০০১ সালের সহযোগিতা চুক্তির পর সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৩ সালে নতুন করে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিভিন্ন দফায় আলোচনা শেষে বর্তমান পর্যায়ে ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের অবস্থায় পৌঁছেছে দুই পক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, সুশাসন ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক আরো গভীর ও কাঠামোগত রূপ পাবে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬