গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

জ্বালানি সংকট ঘিরে সরকারের গোপনীয়তার অভিযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৫:২৫ এএম ২০২৬
জ্বালানি সংকট ঘিরে সরকারের গোপনীয়তার অভিযোগ
ছবি

চালকদের অভিযোগ, সরকার জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে তারা তীব্র ঘাটতির মুখে পড়েছেন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের চরম সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র যে কোথাও কোথাও রাস্তায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঢাকার জিয়া উদ্যানের লেকপাড়, সংসদ ভবন এলাকা, পরীবাগ, আসাদগেটসহ বিভিন্ন স্থানের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট ও অস্বাভাবিক ভিড়। অনেক চালক রাতভর অপেক্ষা করেও তেল পাননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।

চালকদের অভিযোগ, সরকার জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে তারা তীব্র ঘাটতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের ভাষায়, কোথাও না কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম বা ‘ফুটো’ রয়েছে, যার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বিষয়টি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করছে অথবা দায়িত্বশীল পর্যায়ে কোনো ধরনের কারসাজি চলছে।

ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে দেখা গেছে চরম বিশৃঙ্খলা। কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে পাম্প বন্ধ করা হচ্ছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময় পর বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনেক চালক তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

চালকদের একজন মো. ইস্রাফিল বলেন, বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে শুনতে পান, স্টেশনে তেল শেষ হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকার যখন পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলছে, তখন এই সংকট কেন তৈরি হচ্ছে।

অন্য চালকরা জানান, রাতভর অপেক্ষা, মশার কামড়, গরম ও ধুলাবালির মধ্যেও তারা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সংখ্যক যানবাহনের পর পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তেল সরবরাহ ঠিক থাকলে সেটি কোথায় যাচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের দাবি, একাধিক পাম্পে তেল না থাকায় যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে, ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ছে।

ফিলিং স্টেশন মালিক ও কর্মীদের কেউ কেউ জানান, সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে, চালকদের অভিযোগের মুখে তারা চাপে রয়েছেন।

সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাবও দেখা গেছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানির মজুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং এপ্রিল–মে মাসের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তবে সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মজুদ থাকার পরও বাজারে এমন অস্থিরতা তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। সরবরাহ ব্যবস্থার কোথাও সমন্বয়হীনতা বা নিয়ন্ত্রণ দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চালকদের ভোগান্তির নানা চিত্র ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তুলছে।

চালকদের ভাষায়, এটি এখন শুধু জ্বালানি সংকট নয়, বরং একটি আস্থার সংকট-যেখানে সরকারের বক্তব্য আর বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/১৮/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

হজের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৮ এপ্রিল ২০২৬

হজের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ ফ্লা...

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত
১৮ এপ্রিল ২০২৬

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ ‘আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া...

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল চায় পুলিশ
১৮ এপ্রিল ২০২৬

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল চায় পুলিশ

জ্বালানি তেলের সংকট ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তির মধ্যে পরিচয়পত্র দেখিয়ে অগ্রাধিকার ভি...

তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে দেশ
১৮ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে দেশ

জ্বালানি সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ খাতে

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই