দেশে সরকারি খাতে প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি পদ শূন্য থাকলেও বেকারত্ব ক্রমাগত বাড়ছে-এমন চিত্রে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো গভীর হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, এই হিসাব ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ।
গ্রেডভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গ্রেড ১ থেকে ৯ পর্যায়ে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, গ্রেড ১০ থেকে ১২ পর্যায়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, গ্রেড ১৩ থেকে ১৬ পর্যায়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং গ্রেড ১৭ থেকে ২০ পর্যায়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য শ্রেণিতে আরো ৮ হাজার ১৩৬টি পদ খালি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি শূন্যতা গ্রেড ১৩ থেকে ২০ পর্যায়ে, যা মূলত মাঠপর্যায়ের সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় প্রশাসনের সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরকার শূন্য পদ পূরণে ধাপে ধাপে নিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক হাজার পদ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত শূন্য পদ ও নিয়োগ পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে পদ খালি থাকার পেছনে নতুন পদ সৃষ্টি ও অবসরে যাওয়া জনবল প্রতিস্থাপনের ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীরগতির নিয়োগ প্রক্রিয়াও পরিস্থিতিকে দীর্ঘায়িত করেছে বলে জানা যায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে অনুমোদিত পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে শূন্য পদও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নামের পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ দশমিক ৩ লাখ। এক বছরে বেকারের সংখ্যা প্রায় ৩ দশমিক ৩ লাখ বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে লাখো পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোবাশ্বের মোনেম জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি তাদের।
সরকারি উদ্যোগে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার পদ্ধতি আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করার পরিকল্পনাও চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য পদ ও বেকারত্ব একসঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়ছে। দ্রুত নিয়োগ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কার ছাড়া এ সংকট নিরসন কঠিন হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৪/২০২৬