গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

নেত্রকোনায় বৃষ্টি ও ঢলে ৩১৩ কোটি টাকার ফসল ক্ষতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৮ পিএম, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪০ এএম ২০২৬
নেত্রকোনায় বৃষ্টি ও ঢলে ৩১৩ কোটি টাকার ফসল ক্ষতি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ ১০ উপজেলায় ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২২ হাজার ৩৪৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৬৯ হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের প্রায় ৩১৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলমাকান্দা, খালিয়াজুরি ও মদন উপজেলায়। এছাড়া সদর, বারহাট্টা, কেন্দুয়া, আটপাড়া, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা ও দুর্গাপুরেও হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এ বছর ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৮ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়, যার ওপর প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নির্ভরশীল। এসব জমি থেকে বছরে প্রায় তিন লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়, যা হাওর এলাকার কৃষকদের জীবিকা ও পারিবারিক ব্যয়ের প্রধান উৎস। তবে এবার অতিবৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়লেও কোনো বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটেনি; মূলত বৃষ্টির পানিতেই জমি ডুবে গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর এক লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন উৎপাদন। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে। সরকারি হিসাবে ৬২ শতাংশ ধান কাটা হলেও বাস্তবে এখনও প্রায় ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে বলে কৃষকদের দাবি।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে হাওরে পানি জমে থাকায় ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার হেক্টর জমির ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে হারভেস্টার ব্যবহারেও সমস্যা হচ্ছে, আবার জমিতে পানি থাকায় যন্ত্র দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত বাঁধ, পলি জমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অধিকাংশ স্লুইসগেট অকেজো থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে ফসলের ক্ষতি বাড়ছে।

খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় অর্ধেক ধান কাটা সম্ভব হলেও বাকি প্রায় সব ক্ষেতই পানির নিচে চলে গেছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, কংস ও উব্দাখালি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

হাওরের এই ফসলহানি কৃষকদের জীবনে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, কারণ এ ফসলের ওপরই তাদের সারা বছরের জীবিকা নির্ভরশীল।
সানা/আপ্র/৪/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল
১৯ মে ২০২৬

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন...

ফায়ার সার্ভিসে ২০ নতুন স্টেশন হচ্ছে, আসছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসে ২০ নতুন স্টেশন হচ্ছে, আসছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি...

নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়লো সরকার
১৯ মে ২০২৬

নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়লো সরকার

দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরে নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ৫ টাকা মূল্যমানের কারেন্স...

ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতি শিকার হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে