রিজিক মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। জীবিকা, খাদ্য, অর্থ, স্বাস্থ্য, সন্তান, জ্ঞান ও শান্তিসহ সবকিছুই আল্লাহর দেওয়া রিজিক। অথচ বাস্তব জীবনে এই রিজিক নিয়েই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা, ভয় ও উদ্বেগ দেখা যায়। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের রিজিক পূর্বনির্ধারিত এবং এর দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ওপর। তাই চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই একজন মুমিনের মূল শিক্ষা।
চেষ্টা করা মানুষের দায়িত্ব
ইসলাম অলসতা বা কর্মবিমুখতাকে সমর্থন করে না। বরং হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের নির্দেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-
“অতঃপর যখন নামাজ শেষ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো এবং বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
(সুরা আল-জুমু’আহ, আয়াত: ১০)
অর্থাৎ, পরিশ্রম ও চেষ্টা মানুষের দায়িত্ব; কিন্তু ফল নির্ধারণ করেন মহান আল্লাহ।
প্রত্যেক প্রাণীর রিজিক আল্লাহর দায়িত্বে
কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন-
“পৃথিবীর কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।”
(সুরা হুদ, আয়াত: ৬)
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে-
“আকাশেই রয়েছে তোমাদের রিজিক এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত সবকিছু।”
(সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ২২)
এছাড়া বলা হয়েছে-
“নিশ্চয়ই আল্লাহই একমাত্র রিজিকদাতা, তিনি শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।”
(সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৮)
রিজিক কম-বেশি আল্লাহর পরীক্ষা
ইসলামি দৃষ্টিতে রিজিকের তারতম্য আল্লাহর পরীক্ষা। তিনি বলেন-
“আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।”
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫)
আরো বলা হয়েছে-
“নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যাকে ইচ্ছা রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত করেন।”
(সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৩০)
আল্লাহর ওপর ভরসা করাই যথেষ্ট
কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে-
“আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
(সুরা আত-তালাক, আয়াত: ৩)
আরো বলা হয়েছে-
“তিনি যদি তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে যে তোমাদের রিজিক দেবে?”
(সুরা আল-মুলক, আয়াত: ২১)
রিজিক শুধু অর্থ নয়
ইসলামি শিক্ষায় রিজিক শুধু অর্থ বা খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুস্থতা, ঈমান, জ্ঞান, নেক সন্তান, পরিবার, মানসিক শান্তি ও সম্মানও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ যদি সবাইকে প্রচুর রিজিক দিতেন, তবে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো; তাই তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণেই রিজিক দান করেন। (সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ২৭)
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রিজিক নির্ধারিত
হাদিসে এসেছে, মানুষ তার নির্ধারিত রিজিক সম্পূর্ণ না পেয়ে মৃত্যুবরণ করবে না। তাই রিজিক নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উপসংহার
ইসলাম শেখায়-পরিশ্রম করতে হবে হালাল পথে, কিন্তু ফলাফলের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে। রিজিক নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে বিশ্বাস, ধৈর্য ও ভরসার সঙ্গে জীবন যাপন করাই একজন মুমিনের মূল শিক্ষা।
সানা/আপ্র/৩/৭/২০২৬