নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক সেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম একসঙ্গে নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ সংক্রান্ত এক নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক পরামর্শ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউএনএফপিএ-এর ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর সহিংসতার শিকার হন এবং ৬২ শতাংশ ভুক্তভোগী তাদের অভিজ্ঞতা কখনোই প্রকাশ করেন না।
জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার চালু রয়েছে। এর মধ্যে আটটি পুরনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ছয়টি নতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব সেন্টারে চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা, ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষা, মানসিক পরামর্শ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম একত্রে পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি সেন্টারে মোট ২২ জন জনবল থাকার কথা রয়েছে, যার মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ কর্মকর্তা, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, আইন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ থাকায় সবগুলোতে ধাপে ধাপে এ সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে ৯৫টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল চালু রয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি জেলা সদরে এবং ৬৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থিত।
এ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ৮১ হাজার ৯২৮ জন সেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৪৯ হাজার ৭৬৭ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩১ হাজার ৫৯৬ জন এবং অগ্নিদগ্ধ ৫৬৫ জন রয়েছেন।
সরকারের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলা ও প্রতিটি উপজেলায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল বা সেন্টার স্থাপন করা।
মন্ত্রী বলেন, আগে এই সেবা ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল নামে পরিচালিত হলেও পরে মাল্টি সেক্টরাল অ্যাপ্রোচ এবং বর্তমানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
এই টিম ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কিশোর-কিশোরী ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি আরো বলেন, ১০৯ হেল্পলাইনের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বেতন সমস্যা সমাধানে থোক বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬