কক্সবাজারে দিনব্যাপী সফরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়ন বিষয়ক নতুন ঘোষণা, বাজেট ব্যাখ্যা এবং বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি পিএমখালী, ডুলাহাজারা ও পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
পাতলী খাল পুনঃখননে কৃষি উন্নয়নের সূচনা: কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোদাল হাতে মাটি কেটে তিনি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে আয়োজিত পথসভায় তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় বারো হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরো বলেন, খাল পুনঃখনন কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
বাজেট বাস্তবায়ন ও বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব: পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সদ্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি আরো জানান, জনস্বাস্থ্যের কারণে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, উন্নয়নমূলক এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও বিরোধী দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ঘোষণা: তিনি জানান, প্রতিটি জেলায় কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার, বীজ ও প্রণোদনা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
বৃক্ষরোপণে পঁচিশ কোটি গাছের লক্ষ্য: ডুলাহাজারা মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে মোট পঁচিশ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই।
সাফারি পার্ক পরিদর্শন ও পরিবেশ উদ্যোগ: কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি স্মারক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বলেন, প্রতিটি জেলা পর্যায়কে সবুজায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি কক্সবাজার থেকে পেকুয়া পর্যন্ত নিজে গাড়ি চালিয়ে সফর করেন।
শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত: পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা বাজার এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের হাতে বিশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
দিনব্যাপী সফরের সমাপ্তি: সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/১৩/৬/২০২৬