ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের কারাগারগুলো বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দির চাপ বহন করছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের নবম দিনে টেবিলে উত্থাপিত পৃথক দুটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে কড়া অবস্থান: সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের পরিপন্থী।
তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের ফলে বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী (নন-লেথাল) অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তবে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি এখনো হয়নি বলেও জানান তিনি।
কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ৩২ হাজারের বেশি বন্দি: অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারের মোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি রয়েছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন।
অর্থাৎ কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ জন বেশি বন্দি রয়েছেন, যা অনুমোদিত সক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ।
তিনি জানান, বর্তমানে কারাগারগুলোতে পুরুষ বন্দির সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী বন্দি রয়েছেন ২ হাজার ৭৭ জন। অতিরিক্ত বন্দির চাপের কারণে বিভিন্ন কারাগারে আবাসন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন কারাগার নির্মাণে জোর: এই সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগারের পুনর্র্নিমাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের কারাগারগুলোতে আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বন্দির আবাসনের ব্যবস্থা হবে এবং মোট ধারণক্ষমতা বেড়ে ৪৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হবে।
এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি কারাগারের সম্প্রসারণ ও পুনর্র্নিমাণ প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে জানান।
নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের দুই চ্যালেঞ্জ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে দেশের কারাগারগুলোতে ক্রমবর্ধমান বন্দিচাপ-এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে এসেছে। সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সানা/আপ্র/১৭/৬/২০২৬