জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি বড় ব্যর্থতার একটি হলো তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে না পারা। বরং সরকার তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা কনসোর্টিয়াম ‘সোয়াস অ্যান্টি–করাপশন এভিডেন্স’-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এক-এগারো ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান ও অধ্যাপক পল্লবী রায়।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ তৈরির পরিবর্তে ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে। ক্ষমতার লোভটাই তাদের শেখানো হয়েছে।”
সাবেক এই উপদেষ্টার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার প্রধান তিনটি জায়গা হলো-সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমলাদের অতিরিক্ত প্রভাব, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থতা এবং নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে যাওয়া।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান রাষ্ট্রসংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সরকারের আপস সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বুঝতে পারেনি কোন সময়ে সাহসী ও মৌলিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও রক্ষণশীল পথ বেছে নেয়। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের পরিবর্তে একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বদলে আগের ব্যবস্থাই অনেকাংশে বহাল থেকেছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার মুখে সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে সে বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাতে পারেনি। সংস্কারের যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউনূস সরকার সংস্কার শব্দটি চালু করেছে। অথচ তাদের নিজেদের তৈরি করা সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো তারা দেখেনি। ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা একটি ‘রিফর্ম গেম’ খেলেছে।”
হোসেন জিল্লুর রহমান ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সানা/আপ্র/০১/৮/২০২৬