গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ডিএফসি সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ওয়াশিংটন, প্যাক্স সিলিকায় অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা; আগামী সপ্তাহেই ঢাকায় আসছে মার্কিন ২৫ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৯ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৯ এএম ২০২৬
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর -ছবি পিআইডি

বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচকভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে গুদামজাতকরণ, সয়াবিন, তুলা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের সরবরাহব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সার্জিও গর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। প্যাক্স সিলিকা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খল সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক-সুরক্ষা উদ্যোগ।

ডিএফসি সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস: বৈঠকে ডিএফসির মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। তিনি আরো জানান, ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগির একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নিজেও কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্থিতিশীলতা নিয়ে মার্কিন আস্থার বার্তা: সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইতিবাচক বার্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ভ্রমণ নির্দেশিকায় সংশোধন এনেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

এফডিএ সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ: বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশে পণ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন সার্জিও গর। এ ছাড়া আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা সংকটেও গুরুত্ব: বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত দেশ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকায় আসছে মার্কিন ২৫ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল: শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত পৃথক এক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২৫টি শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রথম সারির কর্মকর্তা এ সফরে অংশ নেবেন। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করা এবং মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই প্রতিনিধি দল আসছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি সহায়তা নিয়ে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আস্থার কথা জানানো হয়েছে। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকার পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নীতিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মার্কিন বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত। সরকার চায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে এখানকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সুযোগগুলো দেখুন। মাহ্দী আমিনের মতে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। এর ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে আরো বেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন: সকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহ্দী আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিকেলের ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক।
সানা/আপ্র/০১/৮/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: জিল্লুর
০১ আগস্ট ২০২৬

তরুণদের ক্ষমতার লোভ শিখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: জিল্লুর

জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিপুল জনপ্রত্যাশা নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেছেন...

সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
০১ আগস্ট ২০২৬

সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নি...

ঢাকায় ছয় বছরে সড়কে ঝরেছে ১ হাজার ৩৮৪ প্রাণ
০১ আগস্ট ২০২৬

ঢাকায় ছয় বছরে সড়কে ঝরেছে ১ হাজার ৩৮৪ প্রাণ

রাজধানী ঢাকার সড়কে গত ছয় বছরে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৩৮৪ জন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্...

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রয়োজনে কঠোর হবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
০১ আগস্ট ২০২৬

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রয়োজনে কঠোর হবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

কেউ কেউ রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভাজন ছড়ানোর জন্য ‘ষড়যন্ত্রের প্রকল্প’ হাতে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই