শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়ালে সাইবার আইনের আওতায় সরাসরি গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৮ জুন) সকালে সিলেটে এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলেও বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ যদি অপপ্রচার চালায়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে চুপ করে না থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা সংবাদ প্রচার করলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর সত্যতা না থাকলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় তিনি বলেন, নকল প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ১৯৮০ সালের নকল প্রতিরোধ আইন সংশোধন করে ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করে নতুনভাবে কঠোর আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ কার্যক্রম শুরু হবে, যার আওতায় শিক্ষকদের ট্যাব ও ল্যাপটপ দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠদান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা নকল ধরা পড়লে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা দায়ী থাকবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা সমাধানের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ দ্রুত শুরু করা হবে। গ্রামীণ স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট কমিয়ে আনা হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বিবেচনায় নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারিকরণের পর শিক্ষকদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হবে।
এ ছাড়া তিনি জানান, স্কুল ও মাদ্রাসায় শূন্য থাকা প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকের পদ দ্রুত পূরণ করা হবে। প্রয়োজনে কওমি মাদ্রাসার যোগ্য দাওরায়ে হাদিস গ্র্যাজুয়েটদেরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬