গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মেনু

ব্যক্তিগত তথ্যের শঙ্কায় পুরোনো ডিভাইস জমাচ্ছেন মার্কিনিরা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৪ পিএম, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২৩:২২ এএম ২০২৬
ব্যক্তিগত তথ্যের শঙ্কায় পুরোনো ডিভাইস জমাচ্ছেন মার্কিনিরা
ছবি

এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ ব্যবহার অযোগ্য বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়া স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও স্মার্টওয়াচ ফেলে না দিয়ে ঘরের ড্রয়ারে জমিয়ে রাখেন। পরিবেশের জন্য রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার অধিক উপকারী হলেও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা এবং রিসাইকেলের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কোটি কোটি ডিভাইস বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক ব্যবসাভিত্তিক সাময়িকী *ফরচুন* চার হাজার মার্কিন ভোক্তার ওপর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৩৯ শতাংশ মানুষ কোনো ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করার পর সেটি ঘরে সংরক্ষণ করে রাখেন। অন্যদিকে, প্রতি ১০টি ডিভাইসের মাত্র একটি, অর্থাৎ ১০ শতাংশ রিসাইকেল বা পুনরায় বিক্রি করা হয়। আর ৯ শতাংশ মানুষ পুরোনো ডিভাইস সরাসরি আবর্জনায় ফেলে দেন।

মানুষের ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স পণ্য ফেলে রাখা বা পরিত্যাগের আচরণ নিয়ে *ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন*-এর অর্থায়নে গবেষণা চালিয়েছে *ফরচুন*। গবেষণায় কার্যকারণ বিশ্লেষণ, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি, মানুষ কী বলে এবং বাস্তবে কী করে-এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণে বিভিন্ন পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দুটি প্রধান কারণে পুরোনো ডিভাইস ড্রয়ারেই জমা থাকে। প্রথমত, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। যাঁরা মনে করেন রিসাইকেল বা বিক্রির মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাঁদের মধ্যে ডিভাইস জমিয়ে রাখার প্রবণতা যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ৯ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয়ত, কোথায় এবং কীভাবে রিসাইকেল করতে হবে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব। যাঁরা রিসাইকেলের স্থান বা পদ্ধতি জানেন না, তাঁদের মধ্যে ডিভাইস নিজের কাছে রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া অনেকেই পুরোনো ডিভাইসকে বিকল্প তথ্যভান্ডার বা ব্যাকআপ হিসেবেও সংরক্ষণ করেন।

তবে গবেষকেরা বলছেন, ইলেকট্রনিক্স পণ্য রিসাইকেল বা বিক্রি করা অনেকের ধারণার চেয়ে সহজ। ডিভাইস অন্যের হাতে দেওয়ার আগে ভেতরের সব তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাপল বা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাকাউন্ট থেকে ডিভাইসটি সরিয়ে ফেলাও জরুরি। তা না হলে ডিভাইসটি আগের ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থেকে যাবে এবং অন্য কেউ সেটি ব্যবহার করতে পারবেন না।

জরিপে আরো দেখা গেছে, ভবিষ্যতে কী করবেন-এ নিয়ে মানুষের পরিকল্পনা এবং অতীতে তাঁদের বাস্তব আচরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা বাস্তবে ডিভাইস হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের মুহূর্তে আরো তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেকে রিসাইকেল বা বিক্রির পরিবর্তে ডিভাইস ড্রয়ারেই রেখে দেন।

মানুষ কেন ইলেকট্রনিক্স পণ্য রিসাইকেল করেন না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা, সচেতনতা ও প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও আগের অধিকাংশ গবেষণায় রিসাইকেলকেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে *ফরচুন* বিষয়টিকে বিভিন্ন বিকল্পের মধ্য থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বিশ্লেষণ করেছে। এতে ডিভাইস জমিয়ে রাখা, বিক্রি, দান, বিনিময়, রিসাইকেল কিংবা সরাসরি ফেলে দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিকল্পের সুবিধা-অসুবিধা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, কোথায় রিসাইকেল করতে হবে সে সম্পর্কে জানা থাকলে রিসাইকেলের সম্ভাবনা ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে একই সঙ্গে এতে পুনরায় বিক্রির প্রবণতা কিছুটা কমে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় বিক্রিও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

কৃত্রিম সূর্য প্রকল্পে রেকর্ড গড়লো চীনের চুম্বক
২৯ জুন ২০২৬

কৃত্রিম সূর্য প্রকল্পে রেকর্ড গড়লো চীনের চুম্বক

চীনের ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য তৈরি উচ্চ তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকের সফল পরীক...

বিনোদনে বিনিয়োগ ও কনটেন্ট বাড়াচ্ছে অ্যাপল
২৯ জুন ২০২৬

বিনোদনে বিনিয়োগ ও কনটেন্ট বাড়াচ্ছে অ্যাপল

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও সিনেমা হল-উভয় মাধ্যমের জন্য আরো বেশি এবং উন্নতমানের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনু...

ড্রোন ধ্বংসে পিঠে বহনযোগ্য লেজার অস্ত্র আনলো চীন
২৮ জুন ২০২৬

ড্রোন ধ্বংসে পিঠে বহনযোগ্য লেজার অস্ত্র আনলো চীন

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার মোকাবিলায় পিঠে বহনযোগ্য লেজার অস্ত্র উন্মোচন করেছে...

অস্ট্রেলিয়ায় জটিল কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রকল্পের কাজ শুরু
২০ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় জটিল কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রকল্পের কাজ শুরু

বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ সমস্যাগুলোর সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত কোয়ান্টাম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে