গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ইসলাম===

মনুষ্যত্ব বোধকে জাগ্রত করি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১০ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০২ এএম ২০২৬
মনুষ্যত্ব বোধকে জাগ্রত করি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মাহমুদ আহমদ    

আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের যে মহামারি চলেছে, তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহপাকের দেওয়া জীবন বিধান আল কোরআনের শিক্ষা অনুসরণ। সামাজিক অস্থিরতা আর অবক্ষয় হঠাৎ করেই যেন প্রবল রূপ ধারণ করেছে।

পারিবারিক সামাজিক অবক্ষয়জনিত একের পর বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে আমাদের প্রিয় এ দেশ। হত্যা, ধর্ষণ, পরকীয়া, আত্মহননের মিছিলে বেরিয়ে পড়ছে সমাজের এবং নৈতিকতার বিপর্যয় এবং অধঃপতনের ভয়ানক চিত্র। প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের অপকর্মের ঘটনা। সামাজিক অবক্ষয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক অনুশাসনের অভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের অভাব।

আমরা যেন ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মমতা এসব শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার জায়গা দখল করে নিয়েছে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা এ জাতীয় সব নেতিবাচক শব্দের কালো হাত। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মাত্রা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক কোনো নারীই নিরাপদ নয় ধর্ষকদের থাবা থেকে। নারীরা যেন আজ কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, গৃহবধূ এমনকি অবুঝ শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিনের খবরের কাগজে এমন অনেক খবর আসে, যা দেখলে যে কোনো সভ্য মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

বর্তমান সময়ে ধর্ষণের মাত্রা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। আবার কোথাও প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আর আমরা দর্শকের ভূমিকা পালন করছি। এমন সব নৃশংস ঘটনা দেখেও আশপাশের কেউ এগিয়ে না আসায় সহজেই উপলব্ধি করা যায়, আমাদের অবস্থান আজ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

আজ আমরা এতটাই অবক্ষয়ে জর্জরিত যে, বিবেকের যেন মৃত্যু ঘটেছে। যে দিকে তাকাই শুধু অস্থিরতা। বর্তমানে যে সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা তাতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অশান্তি বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। আর এ হতাশা থেকে তার মধ্যে এক ধরনের আগ্রাসী মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ব্যক্তির মধ্যে নেতিবাচক দিকগুলো ফুটে ওঠে। সে আত্মবিশ্বাসী হয় না। তার মধ্যে ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি কাজ করে। নৃশংস হয়ে ওঠে। ফলে ব্যক্তি নিজে যেমন অন্যকে ধ্বংস করতে চায়, তেমনি সে নিজেও এর শিকার হয়। এক্ষেত্রে নারীরা নৃশংসতার শিকার হয় বেশি। মূলত আমরা প্রতিনিয়ত যেসব পৈশাচিক আর হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, তা আসলে সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। এসব আমাদের অবক্ষয় আর সামাজিক সংকটের চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই সবার অজান্তে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অসাম্য বিস্তার লাভ করেছে ভয়াবহ আকারে।

অন্যদিকে যুব সমাজ আজ মাদকে আসক্ত হয়ে দিক বেদিক ঘুরছে। আজ নগর থেকে শুরু করে নিবিড় পাড়াগাঁয়েও ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ছোবল। প্রযুক্তির অপব্যবহারে ফলে নিমেষে পালটে যাচ্ছে সমাজ। যুবসমাজ যেন আজ অস্থির আর তাই সমাজে বাড়ছে নানামুখী অস্থিরতা। নীতি, আদর্শ এবং মূল্যবোধ যেন সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

আসলে লোভ, ন্যায়বিচার, বৈষম্য, নৈতিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে আত্মহত্যা, ধর্ষণ ও হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধপ্রবণতা বেড়েই চলেছে। পারিবারিক কলহ, যৌনাচার, অশ্লীলতা, ধর্ষণ, খুন, ইভ টিজিং, শিশু হত্যা, নির্যাতন; মা-বাবা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, স্বজন, বন্ধুবান্ধব সামাজিক সম্পর্কের এমন নির্ভেজাল জায়গাগুলোয় ফাটল ধরছে; ঢুকে পড়ছে অবিশ্বাস। এ কারণে মা-বাবার হাতে সন্তান বা বিপরীত; স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক প্রেমিকা, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে- যা সমাজ অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।

প্রশ্ন হচ্ছে, সামাজিক অস্থিরতা এক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কী? বিশিষ্টজনদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, বিচারহীনতা ও প্রযুক্তির প্রসারের কারণে ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। সাধারণত দেখা যায়, উচ্চবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তানদের মধ্যে মাদকাসক্ত বেড়ে গেছে। পিতা-মাতাও জানতে পারেন না কখন তাদের সন্তানরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

আবার মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও মাদকের কারণে মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। সহিংসতার বিকাশ ঘটছে। দেখা গেছে, যে-সব নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটছে, সেখানে খুনিরা হয়ত কখনও খুনি ছিল না। এ ক্ষেত্রে আকাশ সংস্কৃতি, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব ও মাদকের বিস্তারের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের জিঘাংসা ও মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। যার ফলে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং খুনের মতো জঘন্যতম কাজ করতেও পিছপা হয় না। কিন্তু এ ধরনের পৈশাচিকতা কখনও কাম্য হতে পারে না।

নৈতিকতাবিবর্জিত মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। কোনো মুসলমানের জন্য এটা শোভা পায় না যে, সে নৈতিকতা বর্জন করে বিপথে চলবে। তাহলে সে নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে। তাই জীবন চলার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের নৈতিক শিক্ষাই পারে মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ জাগ্রত করতে। সর্বগ্রাসী সামাজিক নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা। এর শুরুটা হতে হবে গৃহাভ্যন্তর থেকেই। কেননা জীবনের সর্বক্ষেত্রে সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।

আমার মাঝে যদি নৈতিকতা না থাকে, তাহলে জাতি বা দেশ আমার কাছ থেকে কী আশা করতে পারে? আমি আমার পবিত্র নৈতিকতাকে যদি বিসর্জন দিয়ে দিই, তাহলে তো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আল্লাহপাক আমাদের প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও ইসলামী চিন্তাবিদ

কেএমএএ/আপ্র/৩১.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মসজিদের দরজা বন্ধ থাকলেও বারান্দা থেকে নামাজ আদায় বৈধ
২৫ অক্টোবর ২০২৬

মসজিদের দরজা বন্ধ থাকলেও বারান্দা থেকে নামাজ আদায় বৈধ

গরমের সময় অনেক মসজিদে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানোর কারণে ভেতরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। এ অবস্থায় ঠান্ড...

উত্তমরূপে অজু করার ফজিলত ও সঠিক পদ্ধতি
২৫ অক্টোবর ২০২৬

উত্তমরূপে অজু করার ফজিলত ও সঠিক পদ্ধতি

নবীজি (সা.) একবার সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘তোমাদেরকে কি এমন কিছু আমলের কথা বলে দেব না, যে আমলের...

সৎকর্মের মাঝেই প্রশান্তি নিহিত
২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৎকর্মের মাঝেই প্রশান্তি নিহিত

ইসলাম===

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহানবমী, বিদায়ের সুর দেবীর
২০ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহানবমী, বিদায়ের সুর দেবীর

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহানবমী। পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি নিবেদন, প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে