আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের শুরু থেকেই বিতর্ক-সমালোচনা। ২০তম এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সেই বিতর্ক সেভাবে পেছনে ফেলতে পারেনি। গেমসে পদকের লড়াই যেমন থাকে, তেমনই স্বাগতিক দেশের উদ্বোধন-সমাপনী অনুষ্ঠানে চেষ্টা থাকে বিগত আসরকে ছাপিয়ে যাওয়ার।
সেই হিসেবে বিগত হাংজু ও জাকার্তা এশিয়ান গেমসের পর্দা উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়েছে অনেক জমকালো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিটের চাহিদা থাকে ব্যাপক। দাম অনেক বেশি হলেও গ্যালারির আসন ফাঁকা থাকে না। এই গেমসে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ৩০ হাজার আসনের গ্যালারির কয়েক হাজারই ফাঁকা।
এমনকি মিডিয়া ট্রিবিউনেও অনেক আসন ছিল শূন্য। এশিয়াম গেমসে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু দেখা যায়নি। জাপান প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত দেশ। ক্রীড়াপ্রেমীদের আশা ছিল জাপান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ কিছু প্রদর্শন করবে।
হাংজু গেমসে চীন অসাধারণ লেজার শো ও আন্তর্জাতিক বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেছিল। এবার জাপান উল্লেখ করার মতো সেই রকম কিছুই করেনি। জাপান সময় সন্ধ্যা ছয়টায় গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। আটটার কয়েক মিনিট আগে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে পৌনে এক ঘণ্টা হয়েছে মার্চ পাস্ট। সেখানেও খানিকটা অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। সাধারণত ইংরেজি বর্ণানুক্রমিক সারে দেশগুলো প্রবেশ করে। সেখানে সিরিয়ালের ব্যত্যয় ঘটেছে, আবার এক দেশের নাম একাধিকবার উচ্চারণও হয়েছে।
সাধারণত গেমসে মার্চ পাস্টে অ্যাথলেটরা দাঁড়িয়ে থাকেন। এই গেমসে অবশ্য সবাইকে বসার ব্যবস্থা করেছিল জাপান।
বাংলাদেশের হয়ে পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। আগামীকাল নারী ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টনসহ যাদের খেলা রয়েছে তাদের মার্চ পাস্টে আনা হয়নি। কোচ, কর্মকর্তা, বিওএ স্টাফ মিলিয়ে মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের জন পঞ্চাশেক ছিলেন।
মার্চ পাস্টের পর জাপান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি গেমসের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনকে এক সুতোয় বাঁধার আহ্বান জানান।
জাপান অলিম্পিকের সভাপতি টোকিও অলিম্পিক, বিগত দুই এশিয়ান গেমসের মতো নাগোয়া এশিয়ানও সফল আয়োজনের আশা ব্যক্ত করেন। এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কভেন্ট্রি উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের সম্রাট, সম্রাজ্ঞী ও প্রধানমন্ত্রী গেমসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পর জাপানের হাই জাম্পের অ্যাথলেট সকলের পক্ষে শপথ গ্রহণ করেন। গেমসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মশাল প্রজ্জ্বলন। জাপানের হয়ে অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী ক্রীড়াবিদের সম্মিলনে মশাল প্রজ্জ্বলিত হয়।
এই আনুষ্ঠানিকতাগুলোর মাঝে গান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে। সেগুলো খুব বেশি চোখ ধাঁধানো কিংবা মনোমুগ্ধকর ছিল না।
ডিসি/আপ্র/১৯/০৩/২০২৬