নিউ জিল্যান্ড সফরে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি থেকে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আকাশ চোপড়া। তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে নিয়মিত সুযোগ না দিতে পারলে, তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন ভারতের সাবেক ওপেনার। ভারতের একাদশে নিয়মিত সুযোগ হয় না সুরিয়াভানশির। কেউ চোটে পড়লে কিংবা অনুপস্থিত থাকলেই কেবল খেলানো হয় তাকে।
নিউ জিল্যান্ড সফরেই যেমন ইশান কিষান চোট পাওয়ায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলায় সফরকারীরা। ওই দুই ম্যাচের প্রথমটিতে ভালো করতে পারেননি সুরিয়াভানশি, আউট হয়ে যান স্রেফ ৪ রান করে। তবে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। প্রায় দুইশ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আভিশেক শার্মার সঙ্গে গড়েন ১৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ভালো খেলার পরও, কিষান চোট কাটিয়ে ফেরায় শুক্রবারের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েন সুরিয়াভানশি। দলে ফিরে অবশ্য রানের খাতা খুলতে পারেননি কিষান। ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৮৭ রানে হারে ভারত। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। তাই পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ দুটি তাদের জন্য একরকম নিয়মরক্ষার।
তেমন একটি ম্যাচেই সুরিয়াভানশিকে বাদ দেওয়ায় হতাশ হয়েছেন আকাশ। এর আগে জিম্বাবুয়ে সফরে সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পরও, পরের সিরিজে কোনো ম্যাচ খেলারই সুযোগ পাননি সুরিয়াভানশি। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। তখন ভারতের প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভির বলেছিলেন, একাদশে সুযোগ পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে সুরিয়াভানশিকে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের লড়াই শুরুর আগে একই কথা বলেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও।
তবে আকাশ ভাবছেন ভিন্নভাবে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এই ধারাভাষ্যকার বলেন, জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সম্ভাবনা না থাকলে ঘরোয়া ক্রিকেটে সুরিয়াভানশিকে খেলতে পাঠানো উচিত। যাতে সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে এবং ক্রিজে বেশি সময় কাটাতে পারে।
“গত ম্যাচে আভিশেক সেঞ্চুরি করেছে, আর সুরিয়াভানশি অল্পের জন্য ফিফটি করতে পারেনি। তবে ব্যাটিং ছিল খুবই ভালো।
এরপর প্রশ্ন ছিল, ইশান ফিট হলে কে বাদ পড়বে? যৌক্তিকভাবে চিন্তা করলে উত্তরটা হবে বৈভাব সুরিয়াভানশি, কারণ চোট পাওয়া কিষানের জায়গাতেই সে খেলেছিল। কিন্তু এটা তো নিয়মরক্ষার ম্যাচ।
“বৈভাব সুরিয়াভানশিকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে।
আপনারা কি বৈভাবকে কেবল তখনই খেলাবেন যখন কেউ চোট পাবে কিংবা অনুপস্থিত থাকবে? যদি তা-ই হয়, তাহলে তাকে দেশে পাঠিয়ে দিতে পারেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে বলতে পারেন। অবশ্যই ভারতের ড্রেসিংরুমে থেকেও সে শিখতে পারবে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি এমনটা চলতে থাকে, তাহলে তো তার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়াটাও দরকার।” সুরিয়াভানশিকে নিয়ে দলের পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা স্পষ্ট করার আহ্বানও জানিয়েছেন আকাশ চোপড়া। “দলের উচিত তাদের পরিকল্পনা ও দর্শন জানানো।
হয়তো তারা এরই মধ্যে সবকিছু ভেবে রেখেছে, পরিকল্পনাও সাজিয়েছে। কিন্তু কাউকে তা জানায়নি।
ফলে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে নিয়ে তারা কী করতে চায়, তা আমাদের জানা নেই। তাকে দলে না দেখা কিছুটা হতাশাজনক।” হ্যামিল্টনে রোববার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
ডিসি/আপ্র/৩১/১০/২০২৬