নাহিদ রানার আগুনঝরা গতির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সফরকারীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৪০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া।
ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডাব্লিউ হন মার্নাস লাবুশেন। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের নেওয়া পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
শুরুর ধাক্কা সামলে জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে একাদশ ওভারে নাহিদ রানার বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৯ রান করে ফেরেন ইংলিস। এতে ৫১ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও মোসাদ্দেক হোসেন কনোলিকে ৩৫ রানে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন। ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন পঞ্চম উইকেটে ৩৭ রান যোগ করে দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই আবার আঘাত হানেন নাহিদ রানা। ৪৭ রান করা ক্যারিকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে গ্লাভসবন্দি করান তিনি। এরপর মোসাদ্দেকের বলে এলবিডাব্লিউ হন ম্যাট রেনশ। রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি লিয়াম স্কট ও জেভিয়ার বার্টলেটও। যথাক্রমে ২ ও ১ রান করে বিদায় নেন তারা। রানার চতুর্থ শিকারে ১৪০ রানে অষ্টম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সংগ্রামী এক ইনিংস গড়ে বাংলাদেশ। ১০ রানে সাইফ হাসানকে হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান শতরানের জুটি গড়ে দলের ভিত মজবুত করেন। তানজিদ সপ্তম ওয়ানডে অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর ৫৪ রানে আউট হন। অন্য প্রান্তে শান্তও অর্ধশতক পূর্ণ করে ৮৬ বলে ৬৭ রান করেন।
তবে দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ে মাঝপথে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লিটন দাস ৭ রান করে ফিরলে খণ্ডকালীন অফস্পিনার ম্যাট রেনশের জোড়া আঘাতে ইনিংসের গতি কমে যায়। ১৪০ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। তাদের ৭৫ রানের জুটিতে দুইশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ।
হৃদয় ৩১ রান করে আউট হলেও চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত দায়িত্বশীলতা দেখান মোসাদ্দেক। ৭০ বলে ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি খেলেন ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংসও দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অষ্টম উইকেটে মোসাদ্দেক-তাসকিন জুটি ৩৩ বলে ৪৫ রান যোগ করে।
নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩৮ রানে ৩টি উইকেট নেন। লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ দুটি করে উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান জেভিয়ার বার্টলেট।
প্রথম ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে একাদশ সাজায় স্বাগতিকরা। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক হয় লিয়াম স্কটের।
বাংলাদেশ দল: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।
অস্ট্রেলিয়া দল: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট ও অ্যাডাম জাম্পা।
সানা/আপ্র/৯/৬/২০২৬