ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম গোলটি এলো স্বাগতিক মেক্সিকোর পা থেকে। আর সেই গোল করেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন হুলিয়ান কিনোনেস। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই জালের দেখা পাওয়া এই ফরোয়ার্ড গড়েছেন গত দুই দশকের দ্রুততম উদ্বোধনী গোলের কীর্তি।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের নবম মিনিটে গোলটি করেন ২৯ বছর বয়সী কিনোনেস। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তিনি।
ঘটনার সূচনা দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে। নিজেদের অর্ধে বল নিয়ন্ত্রণে ভুল করেন এক ডিফেন্ডার। সেই সুযোগে বল দখলে নেন এরিক লিরা। পরে সামনে গড়িয়ে যাওয়া বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন কিনোনেস। গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামস এগিয়ে এলেও তার দুই পায়ের ফাঁক গলিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান মেক্সিকান ফরোয়ার্ড।
গোলটির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের প্রথম গোলদাতার মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি একটি অনন্য রেকর্ডও নিজের করে নেন কিনোনেস। ২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কোস্টা রিকার বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেছিলেন স্বাগতিক জার্মানির ফিলিপ লাম। এরপর আর কোনো বিশ্বকাপে উদ্বোধনী গোল এত দ্রুত আসেনি। ফলে ২০ বছর পর বিশ্বকাপের দ্রুততম প্রথম গোলের রেকর্ড গড়লেন মেক্সিকোর এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল কিনোনেসের প্রথম ম্যাচ। অভিষেকেই গোল করে তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের বিশ্বকাপ যাত্রার সূচনা। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুনের পর জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার প্রথম গোল।
এর আগে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। ডান প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ক্রসে রাউল হিমেনেজের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামস। তবে কয়েক মিনিট পরই আর রক্ষা হয়নি সফরকারীদের।
জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল মেক্সিকো। সেই ধারাবাহিকতায় কিনোনেসের গোল স্বাগতিকদের এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত সূচনা, আর বিশ্বকাপ পায় তার প্রথম গোলের নায়ককে।
মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকা এই রাতেই বিশ্বকাপের প্রথম গোলের মালিকানা নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন হুলিয়ান কিনোনেস—অভিষেকেই যিনি হয়ে উঠলেন বিশ্বমঞ্চের আলোচিত নাম।
হ্যাঁ, জাতীয় দৈনিকের ক্রীড়া প্রতিবেদনের স্টাইলে **ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচ-পূর্ব প্রতিবেদনে দুই দলের একাদশ নিচে আলাদা বক্স বা তালিকা আকারে রাখা যেতে পারে।** সেক্ষেত্রে মূল প্রতিবেদনের শেষে এভাবে যুক্ত করা যাবে—
মেক্সিকো একাদশ
হোসে আন্তোনিও রাঙ্গেল (গোলরক্ষক), ইসরায়েল রেয়েস, হোহান ভাসকেস, সেসার মন্তেস (অধিনায়ক), হেসুস গালিয়ার্দো, আলভারো ফিদালগো, মার্সেল রুইস গুতিয়েরেস, রোবের্তো আলভারাদো, এরিক লিরা, হুলিয়ান কিনোনেস, রাউল হিমেনেজ।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ
রোনওয়েন উইলিয়ামস (গোলরক্ষক ও অধিনায়ক), ম্ফো মবোকাজি, এনকোসিনাথি সিবিসি, ইমলিয়ান ওকন, খুলিসো মুদাউ, অব্রে মোদিবা, জায়ডেন অ্যাডামস, তেবোহো মোকোয়েনা, সিফো সিথোলে, লাইল ফস্টার, ইকরাম রেইনার্স।
সানা/আপ্র/১২/৬/২০২৬