জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। ১৯৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় একাধিক সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় ৭ রানের হারে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের দলকে। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।
শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শহীদ মতিউর রহমান চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে থামে।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৩ ওভারে ৪২ রান তুলে ম্যাচে দারুণ ভিত গড়ে দেন। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও সেই সূচনা বড় করতে পারেননি। তবে পাওয়ার প্লেতে ৭২ রান তুলে ম্যাচে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকারও ভালো শুরু পেয়েছিলেন। কিন্তু ৯ বলে ১৫ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৬ বলে ৫৩ রান যোগ করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।
বিশেষ করে পারভেজের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড় বাংলাদেশের দিকেই ঘুরছিল। অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিসকে আক্রমণ করে তিনি রান তোলার গতি বাড়ান। কিন্তু ২২ বলে ৩৬ রান করে অ্যারন হার্ডির শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেই উইকেটই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরের ওভারেই ৩৩ বলে ৪২ রান করা সাইফ হাসান ফিরে গেলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফিনিশারের ভূমিকায় থাকা শামীম হোসেনও পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে; ৮ বলে করেন মাত্র ৭ রান।
শেষ দিকে লড়াই চালিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যায়। শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ২৩ রান। শেষ ৩ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৮ রানে। তখন প্রথম বলে ছক্কা ও পরের বলে চার মেরে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু শেষ বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি এই ব্যাটার।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬ ওভারে ৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। জশ ইংলিস, কুপার কনোলি ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ দ্রুত বিদায় নিলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতেই।
তবে সেখান থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রান করে ফিরলেও অপর প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান রেনশ।
শুরুতে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও পরে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি। ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। পরে বল হাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ, নাহিদ রানা, মুস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট নেন। তবে শেষদিকে বোলারদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে তারা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। আগামী রোববার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৯৬/৫
(ম্যাট রেনশ ৮৯*, টিম ডেভিড ৪৫, মিচেল মার্শ ২০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৮৯/৬
(সাইফ হাসান ৪২, পারভেজ হোসেন ৩৬, তাওহিদ হৃদয় ৩৫, তানজিদ হাসান ৩০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত।
ম্যাচসেরা: ম্যাট রেনশ।
সানা/আপ্র/১৯/৬/২০২৬