খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর করা যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগের পর অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ এবং এর দায় এড়ানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এর আগের দিনও তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে এক শিক্ষার্থীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ জমা দেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো উত্ত্যক্তমূলক বার্তার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবি জানানো হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে কল করে তাকে হেনস্তা করতেন। পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি বিষয়টি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার দায় এড়াতে অভিযুক্ত শিক্ষক মুঠোফোন হারানোর দাবি করেছেন। তবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। অভিযোগ প্রকাশের পর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব মুছে ফেলা হয়েছে বলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অসদাচরণ ও হেনস্তার শিকার হলেও যথাযথ বিচার হয় না। তারা সাময়িক শাস্তির পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেন।
তবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করে বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মুঠোফোন হারিয়ে যায় এবং এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখনো সেটি উদ্ধার হয়নি।
তিনি আরো দাবি করেন, ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং শিক্ষার্থীদের কিছু অনিয়মে বাধা দেওয়ার কারণে একটি মহল ঈর্ষা ও শত্রুতাবশত তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সানা/আপ্র/১৯/৬/২০২৬