আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান বা প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই অনলাইনে শেখা ও হাতে-কলমে দীর্ঘদিনের পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা। মানবিকে স্নাতক এই তরুণের তৈরি এক আসনের যান ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’ গত আগস্টে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। তবে যানটি যাত্রী পরিবহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি।
ইন্টারনেট, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষা এবং পরিবারের সহায়তায় নিজের কারিগরি জ্ঞান গড়ে তুলেছেন তামতা। তাঁর উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থেকেও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সম্ভব। তবে উড়ন্ত যানটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কঠোর পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই।
ভাবনা থেকে উড়ন্ত যান: জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখানে বেড়ে ওঠেন তামতা। পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের নানা সমস্যা, বিশেষ করে আঁকাবাঁকা সড়ক পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিজ্ঞতা তাঁকে ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির ভাবনায় আগ্রহী করে তোলে।
২০১৫ সালে উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠান হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কাজ এগিয়ে নেন। যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। এতে একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহুরোটর ড্রোনের প্রযুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রোটোটাইপটিতে রয়েছে হালকা কাঠামো, ককপিট ও স্বচ্ছ আবরণ। এটি ব্যাটারিচালিত; বিমানের জ্বালানি বা ইথানলের প্রয়োজন হয় না। তবে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হওয়া মানেই যানটি যাত্রী বহন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত- এমন নয়।
ইন্টারনেট যখন শেখার মাধ্যম: তামতা গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাঁর বাবা হরিশ রাম পেশায় মেকানিক। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষায়িত গবেষণাগার ছাড়াই অনলাইনে পাওয়া তথ্য ও ধারাবাহিক পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে নিজের ধারণাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তবে উড়ন্ত যান তৈরি করা অত্যন্ত জটিল কাজ। এর নকশা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, উড্ডয়নের স্থিতিশীলতা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরীক্ষা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে স্বতন্ত্র কারিগরি যাচাই ছাড়া যানটির বাস্তব ব্যবহারযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
আগেও তৈরি করেছেন নানা উদ্ভাবন: হাপিডা স্কাইনেক্সই তামতার প্রথম উদ্ভাবন নয়। এর আগে তিনি মোবাইল ফোন চার্জ করার জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্মার্ট হাঁটার লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ করার যন্ত্র এবং বন বিভাগের জন্য অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তামতার লক্ষ্য দুর্গম এলাকায় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের যান প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত কিংবা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগতে পারে। তবে বাস্তব ব্যবহারের আগে আরো পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সানা/ডিসি/আপ্র/২৪/১০/২০২৬