রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চলমান চিরুনি অভিযান আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, রায়ের বাজার, জেনেভা ক্যাম্প, চাঁদ উদ্যান, ঢাকা উদ্যান ও বসিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পর্যায়ক্রমে চিরুনি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কখনো একযোগে, আবার কখনো ধাপে ধাপে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহে রায়ের বাজার এলাকায় দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সেসব ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কাজে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বসিলার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে দুই প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ৬৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যারা ভবিষ্যতের সব অভিযানে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, রায়ের বাজার ও বেড়িবাঁধ এলাকায় অপরাধে জড়িতদের বড় একটি অংশ ভাসমান। আশপাশের উপজেলা ও দূরবর্তী জেলা থেকে এসে তারা এখানে বসবাস করছে। নির্দিষ্ট পেশা না থাকায় অনেকেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যও রয়েছে। তাদের বৈধ জীবিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, অন্যথায় এলাকা ছাড়তে হবে।
তিনি আরো জানান, বসিলার ক্যাম্পটি আগে থেকেই থাকলেও জনবল কম ছিল। বর্তমানে সেটি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এলাকাটি মূল থানার আওতার বাইরে হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় কিছুটা জটিলতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশেষ মহড়া চালিয়েছে পুলিশ। রোবববার (১৯ এপ্রিল) রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ব্লক অভিযান রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এতে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশ নেন।
রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা, সাদেক খান কাঁচাবাজার ও জাফরাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে টহল ও মহড়া পরিচালনা করা হয়। এ সময় এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সানা/আপ্র/২০/৪/২০২৬