মোঃ আকরাম হোসেন: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ বাথুলী গ্রামে একটি পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ টাকা দাবির মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলায় ষাটোর্ধ্ব এক নারী ও লন্ডনপ্রবাসী এক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলায় যে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ বাথুলী গ্রামের মৃত ইছব আলী মিয়ার ছেলে মোঃ শফি মিয়াকে এক নম্বর আসামি, তাঁর মা মোছা: তাসমা বেওয়াকে দুই নম্বর আসামি, মোছা: ইসমত আরা বেগমকে তিন নম্বর আসামি এবং লন্ডনপ্রবাসী মোঃ আরিফ মিয়াকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। সেলিনা আক্তার ওরফে মেরি নামের এক নারী টাঙ্গাইল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর সিআর মামলা ৫২৮/২০২৬।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলায় উল্লেখ করা অর্থ লেনদেন কিংবা অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের কারও ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। তাঁদের দাবি, কোনো বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করা এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মামলাটি করা হয়েছে।
পরিবারটির অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত আরিফ মিয়াকে মামলায় আসামি করায় এবং ষাটোর্ধ্ব তাসমা বেওয়াকে আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হওয়ায় তাঁরা মানসিক ও শারীরিকভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মামলার এক নম্বর আসামি মোঃ শফি মিয়া বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। ৩৫ লাখ টাকার কাল্পনিক অভিযোগ এনে আমাদের পুরো পরিবারকে বিপদে ফেলা হয়েছে। এমনকি আমার লন্ডনপ্রবাসী ভাই আরিফ মিয়াকেও অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও আমরা চরম সামাজিক বিড়ম্বনা ও আইনি জটিলতায় দিন কাটাচ্ছি। নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত হলে আসল সত্য উন্মোচিত হবে।”
আইনি হয়রানি ও মানসিক ভোগান্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এবং মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে মামলাটির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬