রংপুরের তারাগঞ্জে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একদিন পর দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের একটি পাটখেত থেকে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সানজিদা (৯) ওই গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলাধুলার সময় অপর এক শিশুর সঙ্গে সানজিদার ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় তার মা তাকে বকাঝকা করলে অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের লোকজন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি সন্ধ্যার পর মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের ঘটনায় পুরো পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটায়।
শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানালের পাশের একটি পাটখেতে ভুট্টাগাছ ভাঙতে গিয়ে আসিফ (১৭) নামে এক কিশোর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুল ইসলাম বলেন, “গতকালও শিশুটিকে খেলাধুলা করতে দেখেছি। আজ তার নিথর দেহ পাওয়া গেল। নিষ্পাপ এই শিশুর কী অপরাধ ছিল? আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।”
ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সানজিদা আমার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গতকাল তাকে না পেয়ে পরিবার মাইকিং করেছে। আজ তার মরদেহ পাওয়া গেল। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তার চোখ দুটি দাবানো ছিল।” ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২০/৬/২০২৬