একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। খনিতে উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা না বাড়ায় শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাসও মিলছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে অনেক কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছে।
শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন শিল্প স্থাপনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায় আস্থাহীনতা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস বিতরণকারী সংস্থা কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ২৪০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হচ্ছে না।
ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রাম দিয়ে এলএনজি সরবরাহ হলেও স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাদের মতে, এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিমেন্ট শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি এ. এম. মাহবুব চৌধুরী জানান, গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে গত অর্থবছরে চট্টগ্রামে বিনিয়োগ প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
অন্যদিকে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান বলেছেন, গ্যাস প্রাপ্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানই এই সংকট নিরসনের মূল পথ। তারা সমুদ্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সানা/আপ্র/২০/৬/২০২৬