জাতিসংঘে আবারো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চায় বলে জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট দেশের ওপর বিশাল মানবিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, মানবিক কারণে বাংলাদেশ প্রায় এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় জীবনযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো শক্তিশালী ও ধারাবাহিক মনোযোগ প্রয়োজন।
তিনি রাখাইন রাজ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দ্রুত প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরো জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের মানবিক সহায়তা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নির্যাতনের পর সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই আশ্রিত রোহিঙ্গাসহ কক্সবাজারে প্রায় ১২ লাখ শরণার্থী অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও পরবর্তী সময়ে আস্থা সংকট, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রাখাইনের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হয়।
বর্তমানে রাখাইনে চলমান সংঘাত ও নতুন করে অনুপ্রবেশের ফলে গত এক বছরে আরো প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে সরকারের তথ্য। ফলে সংকট আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ বলছে, সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সানা/আপ্র/২০/৬/২০২৬