কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকায় ভয়াবহ ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে।
বাঁধের তিনটি স্থানে ব্লক ধসে যাওয়া এবং একাধিক স্থানে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে তীব্র ভাঙন ও বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধস ও ফাটলের বিষয়টি জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকার তিনটি পৃথক স্থানে যথাক্রমে ১০ মিটার, ১২ মিটার ও ৬ মিটার অংশের ব্লক পিচিং ধসে নদে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া অন্তত ১০টি স্থানে নতুন করে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার ধসের ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।
কাঁচকোল সড়কটারী এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের এই পশ্চিম পাড়ের তীর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণের পর আমরা নদীভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম।
কিন্তু কয়েক বছর ধরে বারবার ধসের ঘটনায় আমরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।
“পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে আমরা সর্বস্ব হারিয়ে আবারও ভাঙন ও বন্যার কবলে পড়ব।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম ও নুর নাহার বেগম বলেন, “প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি।
এবারও বাঁধে ধসের খবর শুনে দিন-রাত উদ্বেগে কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।
আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ডিসি/আপ্র/০২/০৭/২০২৬