গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে রৌমারীর গ্রামের মানচিত্র

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৫ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৪ এএম ২০২৬
ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে রৌমারীর গ্রামের মানচিত্র
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

মো. আয়নাল হক, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম। সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, সোনাপুর ও গেন্দার আলগা গ্রামের বসতভিটা, আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই থেকে তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবারের ঘরবাড়ি ও জমি নদীর পেটে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নদীভাঙনে সব হারিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০০ পরিবার চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময় স্বচ্ছলভাবে বসবাস করা এসব পরিবারের অনেকেই এখন ভিটেমাটি হারিয়ে রাস্তার পাশে, অন্যের বাড়ির পেছনে কিংবা পরিত্যক্ত স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিলেও অর্থের অভাবে নতুন করে ঘর তুলতে পারছেন না।

সুখেরবাতি গ্রামের মৃত আহাম্মদ দেওয়ানীর ছেলে আমির হামজা (৬৫) বলেন, “আমার বসতভিটাসহ সাত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে কোনোরকমে ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি।”

একই গ্রামের মৃত বাছের আলীর স্ত্রী ছাহের বেওয়া (৬৬) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যাদের টাকা আছে, তারা জমি বন্ধক নিয়ে মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করেছে। আমি তিন ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।”

আল্লাদী বেগম বলেন, “নদীতে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ঘর ভেঙে রাস্তার পাশে এনে রেখেছি। কিন্তু টাকা না থাকায় কোথাও স্থায়ীভাবে ঘর তুলতে পারছি না। এভাবে ঘরের মালামালও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন রশিদ মিয়া, আতোয়ার, আবুল হোসেন, রমজান আলী, রফিকুল ইসলাম, সুরুজ্জামান, সিরাজুল, মজিদ, সুকুমুদ্দিন, ফুলচান, শহর আলী, আয়নাল হক ও বাবুল মিয়াসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী।

স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া (৪০) বলেন, “আমাদের এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও মাদ্রাসাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ব্রহ্মপুত্র নদের স্থায়ী শাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান দুলাল বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেসকাতুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সরকারি সহায়তা তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ ও নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরো বহু পরিবার ও গ্রামের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সাটুরিয়া সীমান্তে অটোরিকশা-পিকআপের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ তিনজন নিহত
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাটুরিয়া সীমান্তে অটোরিকশা-পিকআপের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ তিনজন নিহত

ঢাকার ধামরাই ও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখ...

রাজশাহীতে হঠাৎ পদ্মায় ঢেউয়ের তোড়ে টি-বাঁধসহ ডুবে গেছে ২০ নৌকা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীতে হঠাৎ পদ্মায় ঢেউয়ের তোড়ে টি-বাঁধসহ ডুবে গেছে ২০ নৌকা

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে গতকাল বুধবার রাতে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১০ থ...

ঘোড়াঘাটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু জনস্বাস্থ্য বিভাগের পানির ট্যাংক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘোড়াঘাটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু জনস্বাস্থ্য বিভাগের পানির ট্যাংক

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত জনস্বাস্থ্য বি...

মায়ের দুধে হামসহ নানা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের দুধে হামসহ নানা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে পরিচালিত এক সমন্বিত গবেষণায় শিশুদের হাম আক্রান্ত হওয়ার পেছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে