গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:৪৬ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৩৩ এএম ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থার ঘনঘটা কার স্বার্থে, কার ক্ষতিতে?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যা ঘটছে, তা আর কোনোভাবেই ‘স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিগত সংকট-যার কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহির প্রশ্ন। দেশের প্রধান বাণিজ্যদ্বারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কেবল শ্রমিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সতর্কসংকেত। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপিওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে যে অস্বচ্ছতা ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদীয় আলোচনা, জনপরামর্শ কিংবা স্বতন্ত্র লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ ছাড়াই এগোনোর চেষ্টা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। উন্নয়নের নামে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার আগে সরকার কী ধরনের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েছে-তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো জাতির সামনে নেই।

আরো আশঙ্কার বিষয় হলো, শ্রমিকদের যৌক্তিক উদ্বেগ ও দাবিকে আলোচনার টেবিলে না এনে প্রশাসনিক দমননীতির আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ। বদলি, চার্জশিট, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সংকটকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সংকটকেই বিস্ফোরক করে তোলে-চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, শ্রমিকরা এই বন্দরের প্রতিপক্ষ নয়; তারাই বন্দরের কার্যক্ষমতার মূল শক্তি। তারাই বন্দরের প্রাণ। একই সঙ্গে এটিও সত্য, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমদানি-রফতানি ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিল্প, ব্যবসা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়। কিন্তু এই ক্ষতির দায় শ্রমিকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। সংকটের মূল যেখানে নীতিগত একগুঁয়েমি ও সংলাপহীনতা, দায়ও সেখানেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

এই মুহূর্তে নীতিনির্ধারকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা-চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক শক্তি প্রদর্শনের পথ পরিহার করতে হবে। অবিলম্বে এনসিটি লিজ প্রক্রিয়া স্থগিত করে তা জনসমক্ষে আনা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এবং শ্রমিক প্রতিনিধিসহ সব অংশীজনকে নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য সংলাপ শুরু করা জরুরি। সব পক্ষের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে- চট্টগ্রাম বন্দর অচল হলে সরকার নয়, দেশ অচল হয়। সেই দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এখনো সময় আছে-সংঘাত নয়, দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই পারে এই সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে।

সানা/এসি/আপ্র/০৯/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে