গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৬:২৪ পিএম, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০৪:৩২ এএম ২০২৬
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা
ছবি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য চুক্তি অগ্রগতি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক বহুমাত্রিক কাঠামো নির্মাণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন অংশীদারত্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের পুনঃপ্রবেশ এবং নতুন করে কর্মী নিয়োগের আলোচনা নিঃসন্দেহে সফরের অন্যতম কেন্দ্রীয় অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে অনিশ্চয়তা এবং জটিলতার কারণে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এবার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ, ন্যায্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী করার যে অঙ্গীকার উভয় পক্ষ থেকে ব্যক্ত করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে অভিবাসন ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং নিয়োগ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

তবে শুধু বাজার উন্মুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; দক্ষ জনশক্তি গঠন, প্রশিক্ষণ কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং প্রাক-প্রস্থান প্রস্তুতি জোরদার করা না গেলে এই সম্ভাবনা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। তাই সরকারের জন্য জরুরি হবে একটি সমন্বিত অভিবাসন কৌশল প্রণয়ন, যেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ এবং শ্রম অধিকার সুরক্ষা একত্রে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহ্বান এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, হালাল শিল্প, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা বাংলাদেশকে উচ্চমূল্য সংযোজিত অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে সহায়তা করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বিনিয়োগ পরিবেশের বাস্তব উন্নয়ন। শুধু আহ্বান নয়, বরং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস, আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় আনা সম্ভব নয়। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কার্যকর ব্যবহার এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি সহযোগিতা ভবিষ্যতের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার সমর্থন বাংলাদেশকে আসিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে আরো গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থান বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

তবে এই সফরের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে ঘোষিত উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নের ওপর। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বহু চুক্তি ও সমঝোতা বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়ে ধীরগতি বা জটিলতার মুখে পড়ে। তাই এখন প্রয়োজন একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অগ্রগতিকে নিয়মিত মূল্যায়ন করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এটি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা। এই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন নীতিগত ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বাস্তবায়ন-ভিত্তিক কঠোর মনোযোগ। তাহলেই এই কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হবে।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে