মারাঠি ও হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী প্রিয়া বাপাত শুটিং সেটে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর ঘটনার কথা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই পেশাগত সীমা লঙ্ঘনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।
ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া বলেন, তার অভিনীত প্রথম দিকের একটি সিনেমায় একটি চুম্বন দৃশ্য নিয়ে তিনি শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। চিত্রনাট্য পড়ার সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি বারবার পরিচালককে জিজ্ঞেস করেছিলেন, গল্পে ওই দৃশ্যটির প্রয়োজনীয়তা কী।
প্রিয়ার ভাষায়, ‘আমি শুধু বুঝতে চেয়েছিলাম, এই দৃশ্যটা এখানে কেন দরকার। আমি করতে চাই কি না সেটা নয়, কিন্তু গল্পের সঙ্গে এটা মানাচ্ছে কি না- সেটাই ছিল আমার প্রশ্ন।’
অস্বস্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দৃশ্যটি করতে রাজি হন। তবে তিনি জানান, পরিচালক তাকে আশ্বস্ত করার পরও বিষয়টি তার কাছে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।
পরবর্তীতে একটি গানের শুটিংয়ের সময় পরিস্থিতি আরো অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে বলে জানান এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, ওই দৃশ্যে সহ-অভিনেতা পূর্বনির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক ঘনিষ্ঠ আচরণ করেন।
প্রিয়া বলেন, ‘গানের শুটিংয়ের সময় তিনি হঠাৎ করেই অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে যান এবং বারবার চুমু দিতে থাকেন। আমি তখন বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে বিষয়টা সামলাবো।’
তিনি আরো জানান, তখন নিজের হয়ে প্রতিবাদ করার মতো মানসিক প্রস্তুতি তার ছিল না। বিষয়টি কীভাবে সামলাবেন, তা বুঝে উঠতে না পারায় তিনি নীরব ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
অভিনেত্রীর অভিযোগ, ওই ঘটনার পর শুধু শুটিং সেটেই নয়, ব্যক্তিগত পরিসরেও সহ-অভিনেতার আচরণে অস্বস্তি তৈরি হয়। একই হোটেলে অবস্থান করায় পরিস্থিতি আ জটিল হয়ে ওঠে বলেও তিনি জানান।
তার ভাষায়, সহ-অভিনেতা নিয়মিতভাবে তাকে মেসেজ পাঠাতেন এবং সাঁতার শেখা, একসঙ্গে নৈশভোজ ও সকালের নাশতার মতো বিষয়ে আমন্ত্রণ জানাতেন। তবে তিনি এসব প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেন।
ভোপালে একটি শুটিং চলাকালীন মানসিক চাপে পড়ে যান প্রিয়া। বিষয়টি তিনি তার স্বামী ও অভিনেতা উমেশ কামাতকে জানান। পরে উমেশ কামাত সেটে উপস্থিত হয়ে কয়েকদিন তার পাশে থেকে মানসিকভাবে সহায়তা করেন।
প্রিয়া বাপাত বলেন, ভবিষ্যতে কোনো শিল্পী যেন এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেটাই তার প্রত্যাশা।
এসি/আপ্র/০৬/০৬/২০২৬