ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আমন ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার সর্বত্রই ধান ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণে মহামারী আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন পরই আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আমন ধানে দেখা দিয়েছে মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বেশকিছু জমিতে ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা মাঠে মাঠে ওষুধ স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে কৃষকের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।
কৃষকরা জানায়, কারেন্ট পোকা ধানের গোড়ার নিচের অংশ কেটে দিচ্ছে, ফলে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে মাজরা পোকার আক্রমণে ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকা দেখাচ্ছে। কিছু কিছু জমিতে ধানের গোড়া পচে গিয়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় তারা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। কৃষকরা কোন কূল-কিনারা না পেয়ে বাজারে সার, বীজ, কীটনাশক বিক্রেতাদের নিকট ধর্না দিচ্ছেন। এ সুযোগে ওই বিক্রেতারা তাদের খেয়াল খুশিমত বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক ¯েপ্র করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা পাগলের মত হয়ে কারেন্ট পোকার কীটনাশক ব্যাবহার করছে। সারা মাঠ কৃষকদের কাঁধে কীটনাশক ছিটানো ¯েপ্র মেশিন। মাঠে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৮০ ভাগ ধান ক্ষেতে কারেন পোকার আক্রমণ দেখা গিয়েছে। আমরা দিন রাত ধান ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ।
এ বিষয়ে ঘোড়ঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন, ‘আবহাওয়ার প্রভাবের কারণে এবার পোকার আক্রমণ কিছুটা বেশি দেখা দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকসহ কৃষকদের সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে (৩৪) সুগন্ধি ধান যেহেতু শেষে পাকে, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।’
উল্লেখ্য, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় রোপা আমন চাষের মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে।
কেএমএএ/আপ্র/০৮.১১.২৬