গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

হাম-ডেঙ্গু-মৌসুমি জ্বরে বিপর্যস্ত হাসপাতাল, বাড়ছে রোগীর চাপ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৫৫ এএম ২০২৬
হাম-ডেঙ্গু-মৌসুমি জ্বরে বিপর্যস্ত হাসপাতাল, বাড়ছে রোগীর চাপ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশে একদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেঙ্গু। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশি ও নানা ধরনের সংক্রমণ। একসঙ্গে কয়েক ধরনের রোগের বিস্তারে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালে শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, দুই হাসপাতালের হাম ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পাঁচতলার বারান্দায় শতাধিক রোগী শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালটির একজন চিকিৎসক জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে জটিল অবস্থার অনেক শিশুকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ধরনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা রয়েছে ৬৮টি। এর মধ্যে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ও শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা ১৬টি করে, শ্বাসতন্ত্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা ১১টি এবং শল্যচিকিৎসা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা আটটি। হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা বশির উদ্দিন বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রোগীর চাপ এখন বেশি। প্রতিদিন যতসংখ্যক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা খালি হচ্ছে, চাহিদা তার দ্বিগুণেরও বেশি।

কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম তার দেড় বছরের মেয়ে রোজাকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে হাসপাতাল ঘুরছেন। জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ একাধিক সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুটির নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হলেও শয্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে প্রথমে শিশুটির হাম হয়েছে বলা হলেও ঢাকার চিকিৎসকেরা তা নিশ্চিত করেননি।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ইলিয়াস হোসেনের ছোট ভাই সাদ্দামের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তার ভাষ্য, আশপাশে অনেকেই জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবরও বাড়ছে। ফলে সাধারণ জ্বর নিয়েও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর থাকায় অনেক রোগী শুরুতে রোগের প্রকৃতি বুঝতে পারেন না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হলে জটিলতা বাড়তে পারে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক নন্দিতা পাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বর হলে তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা প্রয়োজন। জ্বর কমে গেলেও ঝুঁকি শেষ হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শরীরে স্যালাইন দেওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে।

হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বহির্বিভাগে ১ হাজার ২৪৬ জন রোগী এসেছেন। তাদের মধ্যে সাধারণ ঠান্ডায় ২৮৯, ডেঙ্গুতে ৩৭, নিউমোনিয়ায় ৩৯ এবং ডায়রিয়ায় ৫১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি বছর এ হাসপাতালে হামের চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ২০৫ জন এবং ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি ২৪২ জন, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ হাজার ৬২৭ জন এবং মারা গেছেন ১৯০ জন। শুধু সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হয়েছে; এর মধ্যে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুও রয়েছে। সেপ্টেম্বরেও প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ([গবধংষবং ঙঁঃনৎবধশ গড়হরঃড়ৎরহম][৩]) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এপ্রিলের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, তখনই দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে হাম ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আক্রান্তদের বড় অংশ ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাদ পড়া শিশুদের জন্য নতুন বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রাজধানীর বড় হাসপাতালের শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বাড়িয়ে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। রোগ নির্ণয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালেই হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পৃথক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত জনবল, অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয় সরকার ও নগর ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতাও জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতের বাইরেও সমন্বিত সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

একসঙ্গে হাম, ডেঙ্গু ও মৌসুমি সংক্রমণের চাপ দেখিয়ে দিচ্ছে, জনস্বাস্থ্যের সংকট মোকাবিলায় শুধু হাসপাতালনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ, টিকাদান, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার সমন্বিত ব্যবস্থাই পারে হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় মৃত্যু ঠেকাতে।
সানা/আপ্র/২২/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মলত্যাগে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মলত্যাগে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

হাম উপসর্গে প্রাণ গেলো আরো ৬ শিশুর
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম উপসর্গে প্রাণ গেলো আরো ৬ শিশুর

গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাত...

হামের উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের উপসর্গে আরো ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৩৬

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হ...

টেনিস খেলোয়াড়ের সাধারণ ইনজুরিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেনিস খেলোয়াড়ের সাধারণ ইনজুরিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই