গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০৬ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৭ এএম ২০২৬
ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের দেখা খুব কমই মিলছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বার্তায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর কোনোটির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসের পেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।

এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বরের ২২ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সবশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগটি। একইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন।

এদিকের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডাটা বলছে, গত ৮ বছরে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে যেখানে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে দেশে। সরকারি হিসাবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।

অর্থাৎ, সবশেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এডিস মশা । তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর ভেতরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

এসি/আপ্র/২৪/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৮২
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৭৮২

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হ...

ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের অন্যতম বড় ঝুঁকি পানিশূন্যতা
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের অন্যতম বড় ঝুঁকি পানিশূন্যতা

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৮৩
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৮৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ১৮৩ জন সন্দেহজ...

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১০৪ মৃত্যু, ৮ মাসের মোট মৃত্যুকেও ছাড়ালো
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১০৪ মৃত্যু, ৮ মাসের মোট মৃত্যুকেও ছাড়ালো

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন, য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে