গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

সেতুতে বাঁশ ব্যবহারকারীকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২০:২৬ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১১ এএম ২০২৬
সেতুতে বাঁশ ব্যবহারকারীকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির চিত্রটি প্রায়ই এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়। এর অন্যতম নির্মম প্রতীক হলো সেতু বা কালভার্টে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অনিয়ম। রাষ্ট্র যখন যোগাযোগের আধুনিকায়নে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ ঠিকাদার ও অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নির্মিত এসব কাঠামো জনকল্যাণের বদলে পরিণত হচ্ছে মরণফাঁদে। সামান্য বৃষ্টি বা একটু ভারী যান চলাচলের চাপেই ভেঙে পড়া এসব সেতু কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই করে না, বরং দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের পেছনে মূল কারণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি এবং কাজের মান তদারকিতে ব্যাপক শৈথিল্য। কাগজ-কলমে ডিজাইন ও বাজেট শতভাগ ঠিক থাকলেও মাঠপর্যায়ে হরিলুটের এই সংস্কৃতি আমাদের উন্নয়ন ভাবনার গভীরে ঘাপটি মেরে থাকা এক গভীর ক্ষত- যা গোটা জাতির জন্যই অত্যন্ত লজ্জাজনক।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সেতুতে বাঁশ দিয়ে কাঠামোগত অপরাধের পুনরাবৃত্তির প্রধান অনুঘটক হলো দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতার এক সংস্কৃতি। অতীতে এই ধরনের ঘটনায় যেসব তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই সময়ের আবর্তে হারিয়ে গেছে অথবা যেনতেন প্রতিবেদন দিয়ে দায় সেরেছে। অপরাধীরা জানে যে, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা দুর্নীতির কালো টাকার জোরে পার পেয়ে যাওয়া যায়। কারণ শাস্তির উদাহরণ খুব কমই দৃশ্যমান হয়। যখন বড় কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঠিক বিচার হয় না, তখন তা অন্য অপরাধীদের আরো বেশি বেপরোয়া করে তোলে। ফলে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের মতো ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা না হয়ে বরং এক ধরনের কাঠামোগত দুষ্টচক্রে পরিণত হয়েছে। নজরদারির দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর দুর্নীতি ও তদারকির দীর্ঘমেয়াদি উদাসীনতা এ অপরাধকে টিকিয়ে রাখতে সরাসরি সহায়তা করছে।

বলা বাহুল্য, কাঠামোগত দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে কেবল ক্ষণস্থায়ী নিন্দা বা সাময়িক বরখাস্ত যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোরতম আইনের প্রয়োগ ও অনুকম্পাহীন বিচার। প্রতিটি অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তৃতীয়পক্ষের নিজস্ব অডিট ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যক্ষ তদারকির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারদের শুধু কালো তালিকাভুক্ত করাই নয়, বরং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার- যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বাধীন মনিটরিং সেল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের করের টাকায় গড়া অবকাঠামো যদি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেয়, তাহলে ওই উন্নয়ন অর্থহীন। এ জন্য কাঠামোগত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল এ অপসংস্কৃতির স্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব। তাই আমাদের প্রত্যাশা, সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহারকারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে কর্তৃপক্ষ।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়া বাড়লো, নৈরাজ্য যেন না বাড়ে
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়া বাড়লো, নৈরাজ্য যেন না বাড়ে

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূ...

শিশুরা নিখোঁজ হবে, লাশ হয়ে ফিরবে, রাষ্ট্র কি শুধু সংখ্যা গুনবে?
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুরা নিখোঁজ হবে, লাশ হয়ে ফিরবে, রাষ্ট্র কি শুধু সংখ্যা গুনবে?

একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবারের পৃথিবী থমকে যায়। সন্তানের ফেরার আশায় উৎকণ্ঠিত বাবা...

একটি মুঠোফোন, এক প্লেট ভাত আর আমাদের বিবেকের মৃত্যু
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি মুঠোফোন, এক প্লেট ভাত আর আমাদের বিবেকের মৃত্যু

একটি মুঠোফোনের জন্য তেরো বছরের শিশু অপ্রতিমকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা, আর ‘ভাত চুরি’ করার অপবাদে এক...

ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে ডেঙ্গু, হাম ও সিজনাল ফ্লুর পাশাপাশি ঘরে ঘরে দীর্ঘস্থায়ী সর্দি, কাশি ও জ্বর এক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে