দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই প্রাণ গেছে ১৩৬ জনের।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৪৩২ জন।
এ ছাড়া বরিশালে ২৫৪ জন, চট্টগ্রামে ৩২৩ জন, খুলনায় ২৬৭ জন, ময়মনসিংহে ১১৫ জন, রাজশাহীতে ১৯৭ জন, রংপুরে ৬২ জন এবং সিলেটে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৭৩০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
দক্ষিণ সিটিতে এইডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু: ডেঙ্গু প্রতিরোধে এইডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে ১২ দিনের লার্ভা জরিপ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।
সিটি করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এইডিস মশার প্রজননস্থল, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যেই এ জরিপ করা হচ্ছে। আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডে এ জরিপ চলবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জরিপের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব এবং লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।”
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এইডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি থেকে মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৭২ জন মাঠকর্মী জরিপের তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্য সংগ্রহের একটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।
জরিপ শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু সূচক, হাউস সূচক, কনটেইনার সূচক ও পিউপা সূচক নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু সূচকের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। সূচক ২০ বা তার বেশি হলে এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, ১০ থেকে ১৯ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০-এর নিচে হলে সাধারণ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জরিপের ফল বিশ্লেষণের পর চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
সানা/আপ্র/২৮/৯/২০২৬