ঢাকার কাছেই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয় ঘটেছে মানিকগঞ্জে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরের এই জেলায় রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা, জমিদারবাড়ি ও বিনোদনকেন্দ্র। ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য তাই মানিকগঞ্জ হতে পারে সহজেই ঘুরে আসার একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
জেলায় ঘুরতে গেলে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি দর্শনীয় স্থান হলো—
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে থাকা এ জমিদারবাড়িতে রয়েছে কারুকার্যখচিত সাতটি দালান।
কালের বিবর্তনে ভবনগুলোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নির্মাণশৈলী এখনো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়া-মানিকগঞ্জগামী বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় কালামপুর যাওয়া যায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা সাটুরিয়ার বাসে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াটি জমিদারবাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া গাবতলী-আমিনবাজার থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস পাওয়া যায়। সাটুরিয়া থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে প্রায় পাঁচ মিনিটেই জমিদারবাড়িতে যাওয়া যায়। বঙ্গবাজার থেকেও সাটুরিয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
তেওতা জমিদার বাড়ি
শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরে সবুজে ঘেরা তেওতা গ্রামে রয়েছে তেওতা জমিদার বাড়ি। দেশের পুরাকীর্তির অন্যতম এই স্থাপনাটি এখনো ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জমিদারবাড়ির আঙিনায় রয়েছে নবরত্ন মঠ। জমিদার শ্যামশংকর রায় এটি নির্মাণ করেছিলেন। একসময় অনেক দূর থেকেও মঠটি দেখা যেত।
ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তেওতা গ্রামে যাওয়া যায়। চাইলে নদীপথেও সেখানে যাওয়া সম্ভব।
বেতিলা জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত বেতিলা জমিদার বাড়ি। বাড়িটি কবে বা কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে।
একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, সত্য বাবু নামে এক বণিক যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখানে বাড়িটি নির্মাণ করেন। পরে তার বসতবাড়িই লোকমুখে বেতিলা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের আরেকটি দাবি, কলকাতার বণিক জ্যোতি বাবু ছিলেন এই জমিদারবাড়ির পূর্বপুরুষ।
মত্ত মঠ
মানিকগঞ্জ জেলা সদরে নিটোল দিঘির পাড়ে প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হয় মত্ত মঠ। প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই মঠের উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট।
মঠটি নির্মাণের জন্য ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের পটল গ্রামের হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার তাঁর বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর এখানে মঠটি নির্মাণ করেন।
নাহার গার্ডেন
গ্রামীণ ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামের নাহার গার্ডেনে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
নাহার গার্ডেনে ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিন হাজার পাখি রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নয়টি উট, একটি উটপাখি ও আটটি ময়ূর। শিশুদের জন্য রয়েছে বড় একটি শিশু পার্ক।
এ ছাড়া এখানে রয়েছে ছোট-বড় চারটি পুকুর এবং টাইটানিকের আদলে তৈরি একটি জাহাজ।
নাহার গার্ডেনে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। সেখানে রয়েছে সাতটি বনভোজনের স্থান। লোকসংখ্যা ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে এসব স্থান ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
এসি/আপ্র/০৪/১০/২০২৬