ইসলামী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ৮৪ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করায় চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ মাসের দেওয়ানি সাজা দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত-১ এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এই রায় দিয়ে সাজা পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ না করায় ইসলামী ব্যাংকের করা এক মামলায় সাইফুল আলমসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাইফুল আলম, যিনি এস আলম নামে বেশি পরিচিত, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এস আলম, তার পরিবারের সদস্যসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, সম্পত্তি জব্দের আদেশ এসেছে আদালত থেকে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের। এর মধ্যে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার খবর এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুটপাটের অভিযোগ থাকা এস আলম ও অন্য বিবাদীদের বিরুদ্ধে বুধবার ব্যাংকটি তরফে আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, এই ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক ছিল না। এছাড়া ডিক্রি জারির পরও দায়িক বা বিবাদীদের মালিকানাধীন কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. এরশাদ বলেন, “ঋণের টাকা আদায়ে অন্য কোনো উপায় না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪ ধারা অনুযায়ী দায়িকদের দেওয়ানি সাজার আবেদন জানায়। আদালত শুনানি শেষে আজ তাদের বিরুদ্ধে ৫ মাসের সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।”
ঋণ পরিশোধ না করায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
যাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন- ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান গুফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ওসমান গনি, মো. রাশেদুল আলম, ফারজানা বেগম, আবদুস সামাদ, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান, শহিদুল আলম, ফারজানা পারভীন এবং আহসানুল আলম।
সানা/আপ্র/২১/৫/২০২৬