গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মনপুরায় মিলবে মেঘনার বুকে গড়ে ওঠা মায়াবী রাজ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৭ এএম ২০২৬
মনপুরায় মিলবে মেঘনার বুকে গড়ে ওঠা মায়াবী রাজ্য
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর কুয়াশার পাতলা চাদর। দূরে জেলেদের নৌকা ঢেউ কেটে এগিয়ে চলছে। পুব আকাশে সূর্যের আভা ছড়িয়ে পড়তেই নদীর জল চিকচিক করে উঠল সোনালি আলোয়। ম্যানগ্রোভ বনের ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ছুটে গেল একদল হরিণ। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও মহিষের ঘণ্টার শব্দ আবার কোথাও ঝাউতলার সবুজে দখিনা বাতাসের মৃদু দোলা। এমন দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে- এটি বাংলাদেশের কোনো জনপদ নয়। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এই দৃশ্যের দেখা মিলবে মেঘনার বুকে গড়ে ওঠা এক মায়াবী রাজ্য মনপুরায় গেলে।

ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপ উপজেলা শুধু নদী বা এক চরাঞ্চলের নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম, জীববৈচিত্র্য এবং অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মেঘনার বিশাল জলরাশি, সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, মায়াবী হরিণ, দখিনা হাওয়া সি-বিচ, ল্যান্ডিং স্টেশন, ঝাউতলা, চারা বাগান, নদীতীরের সূর্যাস্ত এবং বৈচিত্র্যময় স্থানীয় খাবার- সব মিলিয়ে মনপুরায় রয়েছে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা।

মনপুরার ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। তথ্য বলছে, ষোলো শতকে এই অঞ্চলে পর্তুগিজদের আগমন ও বসতি শুরু। পর্তুগিজদের উপস্থিতি ঘিরে মনপুরায় নানান লোককথা প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কেশওয়ালা বা লোমশ কুকুরের উপস্থিতিকেও অনেকে সেই পর্তুগিজ অধ্যায়ের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করেন। ইতিহাসের এই অধ্যায় মনপুরাকে দেশের অন্যান্য দ্বীপাঞ্চল থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

নদীর ভাঙা-গড়ার সঙ্গেও মনপুরার অস্তিত্ব গভীরভাবে জড়িত। মেঘনার স্রোত কখনো কেড়ে নিয়েছে বসতভিটা, আবার পলি জমিয়ে তৈরি করেছে নতুন চর। নদীই এখানকার মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন, আবার নদীই মনপুরার সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় উপাদান। ভোরে জেলেদের নৌকা নদীতে ছুটে যাওয়া, দিনের শেষে মাছভর্তি নৌকা নিয়ে ঘাটে ফেরা কিংবা সন্ধ্যার নরম আলোয় নদীর বুকে নৌকার সারি- সবকিছুতেই ফুটে ওঠে দ্বীপের নিজস্ব জীবনচিত্র।

মনপুরার অন্যতম আকর্ষণ মায়াবী হরিণ। উপকূলীয় বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভের সবুজে তাদের বিচরণ দ্বীপটির স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। সবুজের আড়াল থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা হরিণের পাল কিংবা দূর থেকে বনের ভেতর তাদের ছুটে চলার দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের ভালো লাগবে নিশ্চিত। তবে শিকার ও পরিবেশগত নানা কারণে হরিণের নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনের পাশাপাশি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে হরিণ হতে পারে মনপুরার অন্যতম পরিচয়।

দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও সমৃদ্ধ করেছে ম্যানগ্রোভ বন, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নদীতীর। কেওড়া-গেওয়াসহ উপকূলীয় বৃক্ষরাজির সবুজ পরিবেশ, পাখির কলকাকলি আর খোলা আকাশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে পারে। শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আনাগোনাও মনপুরার প্রকৃতিকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়।

ওই দ্বীপের আরেকটি আকর্ষণ দখিনা হাওয়া সি-বিচ। মেঘনার বিশাল জলরাশি, বালুকাময় তট, খোলা আকাশ ও দখিনা বাতাস মিলে এখানে তৈরি হয় ভিন্ন এক পরিবেশ। বিকেলের শেষ ভাগে সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তের দিকে নেমে যায়, তখন নদীর পানিতে ছড়িয়ে পড়ে লালচে সোনালি আলো। ঢেউয়ের শব্দ আর দক্ষিণা বাতাসের সঙ্গে সেই দৃশ্য মনপুরাকে করে তোলে আরও মোহনীয়।

মনপুরার ল্যান্ডিং স্টেশনও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হতে পারে। নদীর ওপর বিস্তৃত জলরাশি, নৌযানের আসা-যাওয়া এবং মানুষের ব্যস্ততা মিলিয়ে এখানে দেখা যায় দ্বীপের সঙ্গে বাইরের বিশ্বের যোগাযোগের জীবন্ত চিত্র। পাশাপাশি ঝাউতলা ও চারা বাগানের সবুজ পরিবেশ হতে পারে প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রশান্তির জায়গা।

মনপুরার সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, স্বাদেও অনুভব করার মতো। চরাঞ্চলের মহিষের দুধ থেকে তৈরি দই এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের অন্যতম আকর্ষণ। ঘন ও স্বতন্ত্র স্বাদের এই দই স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে। পাশাপাশি মেঘনার টাটকা ইলিশ, কোরাল, বোয়ালসহ বিভিন্ন নদীর মাছ, শীতে হাঁস, ভর্তা ও দেশি নানান পদ পর্যটকদের রসনায় দিতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

মনপুরার পর্যটন সম্ভাবনা শুধু প্রকৃতি কিংবা নির্দিষ্ট কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে সীমাবদ্ধ নয়। নদীভ্রমণ, জেলেদের জীবনযাত্রা, মাছের ঘাট, চরাঞ্চল, স্থানীয় খাবার, ম্যানগ্রোভ বন, বন্য প্রাণী এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৃতি এবং সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার সুযোগও বাড়তে পারে।

কেএমএএ/আপ্র/২৫.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

আত্মহত্যা রুখবে বুদ্ধি ও আবেগের সংমিশ্রণে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মহত্যা রুখবে বুদ্ধি ও আবেগের সংমিশ্রণে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিনের জীবনে সবকিছু নিজের অনুকূলে থাকবে না, কখনো কখনো বিরূপ পরিস্থিতি কিংবা ব্যর্থতার মুখে পড়তে...

বাংলাদেশিরা হতে পারবেন জাপানের ধনী পরিবারের ঘরজামাই
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশিরা হতে পারবেন জাপানের ধনী পরিবারের ঘরজামাই

ভাবুন, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেলেন জামাই হয়ে। কিছুদিন পর দেখলেন, শুধু স্বামী হিসেবে নয়; পরিবারের নতু...

আত্মপ্রেম ও ব্যক্তি সিদ্ধান্তের সম্মানেই পালন অবিবাহিত দিবস
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মপ্রেম ও ব্যক্তি সিদ্ধান্তের সম্মানেই পালন অবিবাহিত দিবস

প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ শনিবার জাতীয় অবিবাহিত দিবস হিসেবে উদযাপিত করা হয়ে থাকে। ১৯৮৪ সালে য...

ওজন কমাতে হাই-প্রোটিন ফ্রেঞ্চ টোস্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওজন কমাতে হাই-প্রোটিন ফ্রেঞ্চ টোস্ট

সকালের নাশতায় মচমচে ও সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ টোস্ট অনেকে পছন্দ করেন। তবে সাধারণ ফ্রেঞ্চ টোস্টে শর্করা ও ক্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে এ ধরনের ব্যক্তিদের গ্রেফতারে যারা ভূমিকা রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর এই ঘোষণার পক্ষে না বিপক্ষে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে