গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জাতিসংঘে তারেক রহমান

শান্তি, ফিলিস্তিন ও দেশ পুনর্গঠনের বার্তা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০১ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৫ এএম ২০২৬
শান্তি, ফিলিস্তিন ও দেশ পুনর্গঠনের বার্তা
ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন -ছবি পিএমও

বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের পাশাপাশি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বাংলায় তাঁর প্রথম ভাষণে তিনি সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, নারী-যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অভিবাসন ও টেকসই উন্নয়নের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন তিনি। সফরকালে বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক, উচ্চপর্যায়ের সভা এবং পার্শ্ব অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

‘মারণাস্ত্র নয়, যুক্তিতর্ক ও কূটনীতি’: সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদেরও স্মরণ করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ।

বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাত জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। এসব সংকটের সমাধানে তিনি আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘকে সমঝোতাভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার কথাও জানান তিনি।

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশ: ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব: রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ, রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মাদক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্রসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানে। নয় বছরের বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে চার দাবি: ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চারটি জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হলো - বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে এবং প্রায় ১ কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকিতে পড়তে পারে।

জলবায়ু মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন, পানি সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি।

দেশ মেরামতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল: দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘থ্রি-আর’ কৌশল - পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন - বাস্তবায়ন করছে। তাঁর ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও জানান তিনি।

শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও ই-স্বাস্থ্য কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে এসব ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে একটি সর্বজনীন কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণ প্রজন্ম: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের অগ্রাধিকারের খাত হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, পোশাক ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন। গত জুনে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের তথ্যও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে পরিবার ও কমিউনিটিকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং দক্ষ ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সুযোগ এখনো বিশ্বের সব মানুষের জন্য সমান নয়। আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে কার্যকর আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সহযোগিতা: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান। আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

শান্তিরক্ষা ও নিরাপদ অভিবাসন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বহুপক্ষীয়তার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণকে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতি দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু: ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাংলাদেশ-জাতিসংঘ সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া এবং অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।

সফরের শুরুতে ভুটান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করেন তিনি।

নিউইয়র্কে শেষ দিনের কর্মসূচি: জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে ব্যস্ত কর্মসূচির শেষ দিনে ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। এরপর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।


‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’: ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে তরুণরা নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়েই এগিয়ে যেতে চায় সরকার।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা, জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্বশান্তি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা-এসব ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
সানা/আপ্র/২৫/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ

রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখন আর শুধু ড্রেন, ময়লার স্তূপ কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দ...

ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রতি শনিবার ৭৫ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রতি শনিবার ৭৫ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন...

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণকে দিকনির্দেশনামূলক বললেন রাষ্ট্রপতি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণকে দিকনির্দেশনামূলক বললেন রাষ্ট্রপতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ...

নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা ঠেকাতে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চান শামা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারীদের প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা ঠেকাতে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চান শামা

নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে আরো শক্তিশালী বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে