গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দেশের মানুষ স্বৈরাচার উৎখাতে ভালো, প্রতিষ্ঠান গড়ায় ব্যর্থ: মাহফুজ আনাম

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৩ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৬ এএম ২০২৬
দেশের মানুষ স্বৈরাচার উৎখাতে ভালো, প্রতিষ্ঠান গড়ায় ব্যর্থ: মাহফুজ আনাম
ছবি

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম

স্বৈরাচার উৎখাতের সক্ষমতা বাংলাদেশের মানুষের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার উৎখাতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রায় ঈর্ষণীয় সক্ষমতা থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ততটাই ব্যর্থ। এর মূল কারণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিন রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ‘আমরা কি জানি কীভাবে শাসন পরিচালনা করতে হয়?’ শীর্ষক পর্বে বক্তব্য দেন মাহফুজ আনাম।

বক্তব্যের শুরুতে বৈশ্বিক পর্যায়ে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। মাহফুজ আনাম বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একই সময়ে বিশ্বে এত যুদ্ধ আর কখনো দেখা যায়নি। কোনো শক্তিশালী দেশ চাইলেই অন্য কোনো দেশে গিয়ে বোমা ফেলছে। এমন বাস্তবতায় ছোট দেশগুলোর নাজুক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরো বেশি সম্পদ ব্যয় করা প্রয়োজন। এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলা এবং সমুদ্রের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা সামাল দিতেও প্রয়োজন বিপুল সম্পদ। অথচ বিশ্ব সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে। সার্বভৌমত্বের ধারণা এখন অস্ত্রের মজুত ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটি আত্মঘাতী।

নৃশংস সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হলেও দেশে কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে তোলা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন মাহফুজ আনাম। ১৯৯১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা গ্রহণ এবং পরে তার পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে ফেরার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন সত্যিই আশা করা হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন একাধিক নির্বাচনও হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিবর্তে দেশ ক্রমেই সংঘাত ও ধ্বংসের দিকে এগিয়েছে।

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা সত্যিই জানি না কীভাবে একটি দেশ পরিচালনা করতে হয়, আমরা আসলে জানি না শাসনব্যবস্থা কী। আমরা জানি না, কীভাবে মানুষের সব শক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সহনশীলতাকে একত্র করে সেই সম্পদকে জাতীয় উন্নয়নে রূপান্তর করতে হয়।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার উৎখাতের সময় জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়, কিন্তু স্বৈরাচার উৎখাত হয়ে যাওয়ার পর জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ে। যে গোষ্ঠীগুলো স্বৈরাচার উৎখাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছিল, তারাই পরে একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়। এখানেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আমরা বারবার, বারবার এবং বারবার ব্যর্থ হয়েছি।’

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। মাহফুজ আনাম বলেন, রাজনৈতিক দলের সমর্থনের ভিত্তিতে দেশের চিকিৎসকেরাও বিভক্ত। সাংবাদিকতাও এর বাইরে নয়। কেউ বিএনপিপন্থী, কেউ আওয়ামী লীগপন্থী, আবার কেউ জামায়াতপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। অথচ একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ থাকলেও পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতার স্বার্থে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়।

আমলাতন্ত্র, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রাজনীতিকরণ বা রাজনৈতিক ব্যবহারের বাস্তবতা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কোনো রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হলে সেটিকে জনগণের ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে উদ্যাপন করা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের ফলাফল, অর্থাৎ জনগণের ইচ্ছা জনস্বার্থে রূপান্তরিত হওয়ার বদলে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।

তিনি বলেন, ‘পুরো সরকারব্যবস্থাকে নিজের দলের একটি সম্প্রসারণে পরিণত করা-এখান থেকেই পতনের শুরু। এর ফলাফল হয় দুর্নীতি, দলীয় পক্ষপাত, স্বজনপ্রীতি ও আনুকূল্য। এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আমাদের পুরো শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।’

প্রযুক্তি দক্ষ আমলাতন্ত্র এবং দক্ষ ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশ এখন এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অগ্রগতি অর্জন করতে হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কম আয়তনের বাংলাদেশে জনসংখ্যা বিপুল এবং রয়েছে নানা ধরনের প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ। তবে মানবসম্পদকে মূল্যবান ও উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে তা সম্ভব।
সানা/আপ্র/৪/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জাইমার জাতিসংঘে চাকরিতে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন
০৪ অক্টোবর ২০২৬

জাইমার জাতিসংঘে চাকরিতে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন...

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে
০৪ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রধানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
০৪ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ...

ঢাবিকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
০৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাবিকে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরো উন্নত করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আদালতে হেলমেট ছুড়ে আখতারুজ্জামান বললেন, কেন পরব

রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়ার সময় মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন তিনি সঠিক প্রশ্ন করেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে