গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় আবার ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে উৎপাদন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।
তিনি জানান, গ্যাসসংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসসংকটে আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় তখন উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইউরিয়া উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আদর্শভাবে গ্যাসের চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ চাপ থাকলেও উৎপাদন সম্ভব।
ফজলুল হক বলেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এতদিন ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছিল। প্রয়োজনের তুলনায় চাপ কম থাকায় কারখানা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও উৎপাদন শুরু করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কারখানাটি চালু হওয়ায় আশপাশের এলাকাতেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে।
স্থানীয় খাবার দোকানি বিনয় দত্ত বলেন, হোটেলের আয় দিয়েই তাদের সংসার চলে। কারখানা বন্ধ থাকলে শ্রমিক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের আনাগোনা কমে যাওয়ায় বেচাকেনাও বন্ধ হয়ে যায়। কারখানা বন্ধ থাকায় তাকে অনেক টাকা ঋণ করতে হয়েছে। এখন কারখানা চালু হওয়ায় পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
ট্রাকচালক শামীম মিয়া বলেন, কারখানা চালু থাকলে মাসে ২০ থেকে ২৫টি ভাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় মাসে ভাড়া মিলেছে মাত্র দুই-তিনটি।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলাম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক ও কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এখন উৎপাদন শুরু হওয়ায় সার উৎপাদন অব্যাহত থাকলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন।
উৎপাদন ও সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ কারখানা
দিনে এক হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা করা যমুনা সার কারখানায় গত কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন হয়ে আসছিল।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।
কারখানার কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে কারখানার মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ছয় কোটি টাকা দিতে হয়।
যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো সার উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে কারখানার সবকিছু সচল রয়েছে।
তিনি বলেন, “আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”
সানা/আপ্র/৬/১০/২০২৬