গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত তৌফিক ইমরোজ খালিদী

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৩ এএম ২০২৬
শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত তৌফিক ইমরোজ খালিদী
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছেন বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এর আগে রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দুপুর আড়াইটার দিকে খালিদীর মরদেহ মাঠে নেওয়া হলে সেখানে শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একে একে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বন্ধু, স্বজন, সাবেক ও বর্তমান সহকর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, খালিদীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও তাঁর কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। শেষবার তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, তিনি যেন জীবন্ত হয়ে সামনে উপস্থিত হয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সূত্র ধরে তাঁদের পরিচয়, পরে তা বন্ধুত্বে রূপ নেয় বলে জানান তিনি। মঈন খান বলেন, সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খালিদীর বিশ্লেষণও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, একটি সংবাদপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সেটিকে পরিচালনা করা এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা, স্বাধীনতা ও সাংবাদিককেন্দ্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খালিদীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ভাষ্য, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে একটি শক্তিশালী সংবাদপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন খালিদী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ তাঁকে সাংবাদিক ও মানুষ হিসেবে অতুলনীয় বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। কলাম লেখক চিররঞ্জন সরকার বলেন, সাংবাদিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে খালিদীর ভূমিকা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অভিনেতা তারিক আনাম খান বলেন, দেশের প্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাত্রা ছিল গর্বের বিষয় এবং এই উদ্যোগে খালিদী ছিলেন সত্যিকারের পথিকৃৎ। তাঁর কাজের নিষ্ঠা ও স্পষ্টবাদিতার কথা উল্লেখ করে তারিক আনাম খান বলেন, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম নিয়ে খালিদীর আরো অনেক কিছু দেওয়ার ছিল।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও পেশাদারত্বের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাজ করে যাওয়া খালিদীর নেতৃত্বের বড় প্রতিফলন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিচালিত সংবাদপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খালিদীর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক খ ম হারূন বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে ইন্টারনেট সহজলভ্য না থাকলেও খালিদী অনলাইন সংবাদমাধ্যম চালুর সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকদের এক ছাতার নিচে এনেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সত্য প্রকাশের জন্য দেশে খালিদীর মতো নেতৃত্ব আরো দীর্ঘদিন প্রয়োজন ছিল।

দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফল অবস্থানে নিয়ে যাওয়া খালিদীর কৃতিত্ব। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে দৃঢ়তা ও একাগ্রতার মাধ্যমে খালিদী সেই বাধা অতিক্রম করেন বলে জানান কামাল আহমেদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় সম্পাদকীয় স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের কাছে খালিদী ছিলেন একটি মডেল। সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, সাংবাদিকতায় সংযম ও দূরদর্শিতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ পরিবর্তন সম্পর্কেও তাঁর আগাম ধারণা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকতায় পথচলা ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জন্ম ১৯৬৭ সালের ৫ জুন টাঙ্গাইলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৮৯ সালে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি। তাঁর সাংবাদিকতার শুরু সাপ্তাহিক সানডে এক্সপ্রেসে। পরে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালের প্রথমার্ধে বিডিনিউজ সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহ শুরু করে। তখন দেশের অন্যান্য সংবাদ সংস্থা টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে খবর সরবরাহ করত। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে খালিদীর নেতৃত্বে নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের প্রথম ডটকম কোম্পানির রূপ দেয়। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর নতুন আঙ্গিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৪ ঘণ্টার সংবাদ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

খালিদীর স্মৃতিচারণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে খালিদী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কথাও গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আদিবাসী, দলিত, নারী অধিকারকর্মী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগ্রামের খবর গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। সহকর্মীদের নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও খালিদীর সাবেক সহকর্মী কাজী নাফিয়া রহমান বলেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা এবং পাঠকের আস্থা অর্জনে সংবাদের সূত্র উল্লেখ করার গুরুত্ব খালিদী তাঁদের শিখিয়েছেন। ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়েজ আহম্মদও সংবাদের নির্ভুলতা ও তথ্যের সূত্র উল্লেখ করার ক্ষেত্রে খালিদীর চর্চাকে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষণীয় বলে মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শব্দ, বাক্য কিংবা তথ্যে আপস করতেন না খালিদী। এপি’র ঢাকা ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলম রিপন তাঁর সম্পাদকীয় নীতি, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকতার অবদানের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ওমর ফারুকও তাঁকে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অবদান স্মরণ করেন।

সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক গাজী নাসিরুদ্দীন খোকন বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় খালিদী গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ অনুধাবন করে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমকে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার বলেন, খালিদী তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সহজেই মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারতেন।

সাংবাদিক শাহরিয়ার করিমের ভাষ্য, আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল এবং তাঁরা একসঙ্গে তিনটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিকূলতার মধ্যে সংবাদনির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অসাধারণ নেতৃত্বগুণ ছিল খালিদীর। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, খালিদী ছিলেন প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল মানুষ।

অন্যান্য বক্তার মধ্যে অভিনেত্রী নিমা রহমান খালিদীর আন্তরিক আতিথেয়তা ও দিকনির্দেশনার কথা স্মরণ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও দৈনিক সময়ের আলোর উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করেন। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, খালিদী কোনো বিষয়ে সহজে সমঝোতা করতেন না। বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান তাঁর প্রাণবন্ততা ও তেজস্বী ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেন। বটতলার নাট্যনির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা সম্পর্কে খালিদীর আগাম ধারণা ছিল এবং তরুণদের নিয়ে কাজ করতে তিনি পছন্দ করতেন।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করা লেখক সালেক খোকন বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেও খালিদী ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। অভিনেতা তারিক আনাম খানও সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম নিয়ে খালিদীর নতুন পরিকল্পনার কথা স্মরণ করেন। সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ বলেন, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের সঙ্গে খালিদীর সুসম্পর্ক ছিল। রবির প্রধান করপোরেট ও নিয়ন্ত্রকবিষয়ক কর্মকর্তা শাহেদ আলম বলেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নিজের নীতির সঙ্গে আপস করতেন না খালিদী।

লন্ডনে অসুস্থতা, দেশে ফেরা ও শেষ বিদায়
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা অবস্থায় গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। তাঁকে সেইন্ট বার্থোলমিউস হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী ও স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর ভাতিজা তারাফ তাজিজ খালিদী ও ভাগনি-জামাই আকিফ আহমেদ কফিন গ্রহণ করেন। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় মহাখালীতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কার্যালয়ে। দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে মরদেহ রাখা হয়। সাবেক ও বর্তমান সহকর্মীরা তাঁদের প্রিয় সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

পরে মরদেহ নেওয়া হয় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের বাসায়। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ওই বাসায় বসবাস করতেন খালিদী। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বজনেরা সকাল থেকেই তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর একমাত্র বোন বাসার তৃতীয় তলায় অপেক্ষা করছিলেন। টাঙ্গাইল থেকে আসেন স্বজনেরাও।

খালিদীর বোন জানান, তিনি নিজের ঘরগুলো যেভাবে গুছিয়ে রাখতেন, সেভাবেই সবকিছু রাখা হয়েছে। শেষবারের মতো তাঁকে তাঁর পছন্দের ঘরে কিছু সময় রাখার ইচ্ছা ছিল পরিবারের। স্বজনেরা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও গভীর আত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি।

খালিদীর খালাত বোন রাশা নাজিয়া জিশান বলেন, পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। মামা সাইফুল হুদা তালহা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই খালিদী অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছিলেন। বাসায় ২১ বছর ধরে কাজ করা নাজমা তাঁকে নিজের বাবার মতো মনে করতেন বলে জানান।

সাংবাদিকতায় রেখে গেলেন অনন্য দৃষ্টান্ত
খালিদীর মৃত্যুতে সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে তাঁর অবদান স্মরণ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশ, সংবাদ পরিবেশনে নির্ভুলতা, তথ্যের সূত্র উল্লেখ, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং পেশাগত নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা।

সাংবাদিক মোস্তফা মামুনের মতে, খালিদীর সঙ্গে অনেক বিষয়ে চিন্তার মিল না থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর দূরদর্শিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন তিনি। ২০০৭-০৮ সালেই মোবাইল যন্ত্রে সবকিছু চলে আসার যে ধারণা খালিদী দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের পরিবর্তনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।

বিভিন্ন বক্তার স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, খালিদী শুধু একটি সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদক ছিলেন না; ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশ, পেশাদার সংবাদপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তরুণ সাংবাদিকদের পথ দেখানোর ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা বক্তারা বারবার উল্লেখ করেন।
সানা/আপ্র/১১/১০/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালি, প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক কর্মীদের গান
১১ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালি, প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক কর্মীদের গান

শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেয়ালচিত্র কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টার প্রতিবাদ...

সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যু, চার দশকের কর্মজীবনের অবসান
১১ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক আমির খসরুর মৃত্যু, চার দশকের কর্মজীবনের অবসান

বাংলাদেশে ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক বুধবারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক আমির খসরু মার...

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিতে গিয়ে নারীসহ আটক ৪
১০ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিতে গিয়ে নারীসহ আটক ৪

রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপ...

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়নের পরীক্ষা হবে ১৬ অক্টোবর
১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়নের পরীক্ষা হবে ১৬ অক্টোবর

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে