জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন বুধবার (১৭ জুন) বৈঠকে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে। অন্যদিকে আসিয়ানভুক্ত দেশ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সংঘাত, বাণিজ্য ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর না করে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিই বাংলাদেশের কূটনীতির ভিত্তি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সংযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা নিরসনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা এবং বিমসটেককে গতিশীল করার উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতি এখন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প সহযোগিতা বাড়াতে জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ চলছে।
নতুন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ব্লু ইকোনমিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রবাসী শ্রমবাজারকে বহুমুখীকরণের দিকে এগোচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে তিনি বলেন, বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও সক্রিয় অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গনে তার অবস্থান আরো সুদৃঢ় করবে।
সানা/আপ্র/১৭/৬/২০২৬