গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

জাতীয় ফল মেলায় চেনা-অচেনা ফলের সমারোহ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৭ এএম ২০২৬
জাতীয় ফল মেলায় চেনা-অচেনা ফলের সমারোহ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় দেখা মিলছে চেনা-অচেনা শতাধিক ফলের। ডেফল, বৈচি, ডেউয়া, আঁশফল, অরবরই, তৈকর, লুকলুকিসহ সচরাচর চোখে না পড়া বহু দেশীয় ফলের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি ফলও। ফলে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে মেলার প্রাঙ্গণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনের এ মেলা আজ শনিবার (২০ জুন) পর্যন্ত চলবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৬৭টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে ১০৮ ধরনের ফল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফলের পাশাপাশি রয়েছে আমদানি করা নানা জাতের ফলও।

শুক্রবার (১৯ জুন) মেলা দেখতে আসেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হাসান ইমাম মাসুম। সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশের নানা প্রান্তে কত ধরনের ফল পাওয়া যায়, বাচ্চারা তা চেনে না। তারা মোবাইল ও কম্পিউটার নিয়েই বেশি সময় কাটায়। তাই দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের নিয়ে এসেছি। তারা খুব আনন্দ পাচ্ছে। এত রকম ফল যে রয়েছে, না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারত না।”

মেলা ঘুরে দেখা যায়, কাউফল, ডেউয়া, গাব, বিলিম্বি, আতা, যজ্ঞ ডুমুর ও লুকলুকির মতো বিরল ফলের পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে থাই ক্যাটিমন, হানি ডিউ, ব্যানানা আম, আপেল আম ও চকাপাতের রাজা নামের আমদানি করা আম।

শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজের স্টলে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে বিরল জাতের মিয়াজাকি, চিয়ানমাই রেড পামার ও দকমাই আম। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনসার আলী জানান, এসব আম বিক্রির জন্য নয়, প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। তবে ব্যানানা আম, ক্যাটিমন ও বারি-৪ জাতের আম কেনার সুযোগ রয়েছে। এসব জাতের বাণিজ্যিক চাষও করা হচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, বারি-৪, হারিভাঙ্গা ও সূর্যপুরী জাতের আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ব্যানানা আম নিয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। আকার ও মানভেদে এসব আম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দিনাজপুরের ‘আলহামদুলিল্লাহ অ্যাগ্রো’ স্টলে আম কিনতে আসা রাশেদ বলেন, “বাজারে ব্যানানা আম সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। এখানে ১০০ টাকায় ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে।”

১১০ টাকা কেজি দরে ‘থ্রি টেস্ট’ জাতের আম কিনেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দুই কেজি নিয়েছি। এই আম কাঁচা অবস্থাতেই বেশ মিষ্টি এবং খোসাসহ খাওয়া যায়।”

মেলায় ক্রেতাদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র নরসিংদীর বিখ্যাত ঘোড়াশাল আনারস। ‘ন্যাচারস ফ্রুট’ স্টলের মালিক হাবিবুর রহমান জানান, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রাবান গ্রামে তিনি এ আনারসের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, “ঘোড়াশাল আনারস খুবই মিষ্টি ও রসালো। আমাদের এলাকায় এর চাহিদা অনেক। মেলার মাধ্যমে এটি ঢাকার বাজারে পরিচিত হচ্ছে। বিক্রি ভালো হলে নিয়মিত সরবরাহ করব। এ ধরনের আনারসের ভালো বাজার রয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে প্রায় ৫০টি বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের জাত। এর মধ্যে রয়েছে কাউফল, করমচা, ডেউয়া, আঁশফল, গাব, যজ্ঞ ডুমুর, চাম্বুল, আতা, চালতা, অরবরই, বিলিম্বি, শরিফা, সাতকরা, তৈকর, ডেফল, লুকলুকি, বৈচি ও মুনিয়া।

আসাদগেট ফলবীথি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রুহিদ হাসান বলেন, “মেলায় ১০৮ ধরনের ফল এসেছে। এর মধ্যে ৫৫ জাতের আম এবং প্রায় ৫০ ধরনের বিরল ফল রয়েছে।”

ফলের পাশাপাশি মেলায় বিক্রি হচ্ছে মাশরুম ও কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও।

‘টেস্টি মাশরুম’ স্টলের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসান দাবি করেন, দেশে প্রথমবারের মতো তারা মাশরুমের চিপস তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, “ছোট প্যাকেট ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মাশরুমের মিষ্টিও রয়েছে। মাশরুম চাষে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে এবং ল্যাব ও অবকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করেছে।”

একই মেলায় কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্যের স্টল নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন উদ্যোক্তা সালমা আক্তার। তিনি জানান, কাঁঠাল থেকে ২২ ধরনের পণ্য তৈরি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরি আচার, চিপস ও কাবাব।

কাঁঠাল থেকে তৈরি নানা ধরনের খাবার দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “কাঁঠালের জুস, চিপস কিংবা আমসত্ত্ব তৈরি করা যায়, মেলায় না এলে জানতাম না। আঁশফলসহ কয়েক ধরনের ফলও দেখলাম, যেগুলোর কথা মনেই ছিল না।”

তিনি বলেন, “অনেক ফলের সঙ্গে পরিচিত হলাম। হারিয়ে যাওয়া বহু দেশি ফল দেখতে পেলাম। বাচ্চাদের নিয়ে সব স্টল ঘুরে দেখেছি। পুরোনো পরিচিত ফলের পাশাপাশি নতুন অনেক ফলও দেখলাম। পরিবারকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করাতেই এখানে আসা। কিনতে না পারলেও দেখলেই ভালো লাগবে।”

মেলায় ‘হর্টেক্স ফাউন্ডেশন’ স্টলে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফাউজিয়া। তিনি বলেন, “ঢাকায় বসবাসকারী অনেক মানুষই নানা দেশীয় ফল সম্পর্কে জানেন না। বিলুপ্তপ্রায় অনেক ফল এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। বিক্রির চেয়ে মানুষকে পরিচিত করিয়ে দেওয়াটাই বড় বিষয়। দর্শনার্থীরা দেখছেন, বাচ্চারা শিখছে—এতেই আমাদের আনন্দ।”
সানা/আপ্র/২০/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যেতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যেতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতিতে আর...

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে