গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মেনু

মানুষ ভবিষ্যতের কথা শুনতে চায়, সেদিকেই এগোতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৪ পিএম, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০০:১৯ এএম ২০২৬
মানুষ ভবিষ্যতের কথা শুনতে চায়, সেদিকেই এগোতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ অতীতের বিতর্ক নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দেখতে চায়। বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, সংকটকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে এটিকে অজুহাতও বানাতে চায় না সরকার। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তবতার নিরিখে এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়। তিনি বলেন, যত ভালো বাজেটই উপস্থাপন করা হোক, কেবল বাজেটের মাধ্যমে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তবু সরকারের সর্বোচ্চ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনার ভিত্তিতেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

অতীতের চেয়ে ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়। অতীতের ভালো-মন্দ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কে না গিয়ে সামনের পথচলাই হওয়া উচিত সবার মূল লক্ষ্য।

নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেনি। অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনায় এবার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ওপর চাপ কমাতে এবং কিছুটা স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছিল। উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছিল, মূল্যস্ফীতি ছিল উচ্চ পর্যায়ে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ব্যাপক চাপে ছিল।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থার কারণে বহু বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছেন, এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবনতি এবং বিনিময় হার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হওয়ার বিষয়টিও দেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক প্রয়োজনের পরিবর্তে কিছু উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ফলে দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে। এসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব না আসায় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রকে চাপ বহন করতে হবে।

অর্থনৈতিক সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংকটকে অস্বীকার করতে চাই না, অস্বীকার করে আমরা থাকতেও পারব না; এটি বোকামি হবে।’ তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার এই সংকটকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং কার্যকর নীতির সমন্বয়ে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
সানা/আপ্র/২৯/৬/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
২৯ জুন ২০২৬

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধ...

অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস
২৯ জুন ২০২৬

অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলসহ একাধিক সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার...

ঢাকাসহ ২০ অঞ্চলে রাতে আছে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
২৯ জুন ২০২৬

ঢাকাসহ ২০ অঞ্চলে রাতে আছে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ২০ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
২৯ জুন ২০২৬

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিগত সময়ে স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 23 ঘন্টা আগে