গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

অস্তিত্ব সংকটে ঢোল-তবলা শিল্প, টিকে থাকার লড়াইয়ে কারিগররা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৯ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৬ এএম ২০২৬
অস্তিত্ব সংকটে ঢোল-তবলা শিল্প, টিকে থাকার লড়াইয়ে কারিগররা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সোনাকান্দা ত্রিবেনীপুল এলাকায় বংশপরম্পরায় ঢোল, তবলা-বায়া, খোল, নালসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে আসছেন কয়েকটি পরিবার। দেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ এই ক্ষুদ্র শিল্পটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকায় বর্তমানে চারটি বাদ্যযন্ত্র তৈরির দোকান রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ জন কারিগর কাজ করেন। এছাড়া অনেকেই নিজ বাড়িতেও এসব বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেন। একসময় এই শিল্পে চাহিদা ও ব্যস্ততা থাকলেও বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে।

কারিগররা জানান, তবলা, বায়া, খোল, নাল, পাখোয়াজ, ঢোল, ঢোলক, খঞ্জরি, ঘুমোটসহ অর্ধশতাধিক বাদ্যযন্ত্র এখানে তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে সরবরাহ করা হয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই শিল্পে ধস নেমেছে।

কারিগরদের অভিযোগ, বর্তমানে চামড়ার সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিক্রি কমে যাওয়ায় তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে নতুন কারিগরও তৈরি হচ্ছে না।

১৯৯০ সাল থেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নির্মল মিউজিক সেন্টারের মালিক দুলাল চন্দ্র দাস বলেন, এখন আর আগের মতো অবস্থা নেই। লাভ কম, খরচ বেশি। চাহিদাও নেই। কারিগর পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। তার ভাষায়, এই পেশা এখন বিলুপ্তির পথে।

তিনি আরো বলেন, আধুনিক যন্ত্র ও প্রযুক্তির কারণে মানুষ এখন গিটারসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রে বেশি আগ্রহী। অনেকে আবার রেকর্ডেড সাউন্ড ব্যবহার করায় লাইভ বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে।

তবলা তরঙ্গের মালিক অরবিন্দু দাস বলেন, কোনো লাভ নেই, কোনোমতে টিকে আছি। আমার পর ছেলে এই পেশায় আসবে না।

শ্রী লোকনাথ যন্ত্র সঙ্গীতের মালিক স্বপন কুমার দাস বলেন, তাদের পরিবার প্রজন্ম ধরে এই কাজ করলেও এখন আর সন্তানদের এই পেশায় আনতে চান না। তার মতে, এখন এই পেশায় সম্মান ও আয় দুই-ই কমে গেছে।

কারিগর প্রদীপ মনির দাস জানান, দীর্ঘদিন কাজ করেও এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আয় কম থাকায় সন্তানের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান আরেক কারিগর অজিত দাস। তিনি বলেন, মজুরি কমে যাওয়ায় এই পেশা ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস জানান, ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। আবেদন পেলে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সূত্র: জাগো নিউজ

সানা/কেএমএএ/আপ্র/৪/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের দরিদ্রতম ৩৫০ কোটি মানুষের মোট নিঃস...

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন
২৫ অক্টোবর ২০২৬

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন

সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে